রাজশাহীর এসি সরফরাজের দাফন সম্পন্ন

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অফিসার্স মেস থেকে উদ্ধার করা সহকারী কমিশনার (এসি) সরফরাজের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে মহানগরীর টিকাপাড়া গোরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পুলিশের ওই কর্মকর্তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে দুপুরে রাজশাহী পুলিশ লাইনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার মরদেহের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে।

এদিকে, পুলিশের এসি সাব্বির আহমেদ সরফরাজকে হত্যা করা হয়েছে, এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি ময়না তদন্তে। এরপরও তার মরদেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করেছে মেডিকেল বোর্ড।

রোববার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত এসি সরফরাজের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। এর আগে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। গঠিত তিন সদস্যের বোর্ড সরফরাজের মরদেহ ময়নাতদন্ত করেন। এই মেডিকেল বোর্ডে ছিলেন- রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক মনসুর রহমান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক ও ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রফেসর এমদাদুর রহমান।

ময়নাতদন্ত শেষে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মনসুর রহমান বলেন, সন্দেহজনক সব দিক বিবেচনা করেই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি হত্যার দিকে যাবে এমন কোনো আলমত মেলেনি। এরপরও বিষয়টি নিশ্চিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরফরাজের মরদেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকস্থলিতে বিষ আছে কি না, কোনো ড্রাগস ছিল কি না- তা আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। আর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার সব তথ্যই উল্লেখ থাকবে বলেও জানান এই ফরেনসিক চিকিৎসক।

ময়নাতদন্তের পর শনিবার দুপুরে সাব্বির আহমেদ সরফরাজের মরদেহ আবারও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাজশাহী পুলিশ লাইনে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে টিকাপাড়া গোরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে রোববার সকালে রাজাপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়। সরফরাজের বাবা রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ওবাইদুল্লাহ মামলাটি দায়ের করেন বলে জানান মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম।

সাব্বির আহমেদ সরফরাজ ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি আরএমপির রাজপাড়া জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা এম ওবাইদুল্লাহ রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক।

তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুরে। তবে মহানগরীর উপশহর এলাকাতেও তাদের বাড়ি রয়েছে। নিহত এসি সরফরাজের চার বছরের একটি মেয়ে আছে। তার স্ত্রী সুলতানা নাসরিন সূচনা একজন চিকিৎসক। সূচনার বাবার বাড়ি মহানগরীর কাজিহাটায়।

স্ত্রী সন্তান নিয়ে উপশহরের বাড়িতে থাকলেও রাতের ডিউটি করার সময় মাঝে মধ্যে এসি সরফরাজ পুলিশ অফিসার্স মেসে গিয়ে তার কক্ষে বিশ্রাম নিতেন। গত শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ডিউটি করেন এসি সরফরাজ।

পরে ওত রাতে বাড়ি না গিয়ে অফিসার্স মেসে ওঠেন। কিন্তু শনিবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে মেসের লোকজন ডাকাডাকি করে তার শব্দ না পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের জানান। পরে পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

তার গিয়ে দেখেন জানালার গ্রিলের সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন সরফরাজ। পরে বাবার উপস্থিতিতে শনিবার বিকেলে ওই কক্ষের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

খবরঃ বাংলানিউজ