রাজশাহীর খানদানি জিলাপি মন ভোলাচ্ছে রোজাদারদের

রাজশাহী

ভেতরে রসে টইটুম্বুর, বাইরেটা মচমচে। মুখে ভাঙতেই কড়মড়ে মিষ্টি স্বাদের যেন অন্যরকম অনুভুতি। ঠাণ্ডা হলেও চলে, গরম হলে তো কথাই নেই। ছেলে-বুড়ো সবার কাছেই প্রিয় একটি খাবার, যদি ডায়াবেটিকস না থাকে।

বিশেষ করে এ রমজানে ইফতারের প্লেটে জিলাপি না থাকলে পুরো প্লেটই যেনো অনেকের কাছে শূন্য মনে হয়। সস্তা এই জিলাপি খাওয়ার স্বাদ যেনো অন্য কোনো দামি খাবারেও নেই। তাই রাজশাহীর শামীম সুইটস এবারও রোজাদারদের মন ভোলাচ্ছে বিশালাকৃতির ‘খানদানী জিলাপি’ দিয়েই।

ইফতারে শরবতের গ্লাসে চুমুক দিয়েই বুট, পেয়াজু, বেগুনির সঙ্গে জিলাপি ভেঙ্গে খেতে পছন্দ করেন অনেক রোজাদার। ঝালমুড়ির সঙ্গে জিলাপির মিশেলে ভিন্ন স্বাদের খোঁজ পান সিয়াম সাধনাকারীরা।

তাই জিলাপি না হলে যেন জমেই না রাজশাহীবাসীর ইফতার। রোজার প্রথম দিন থেকেই রোজাদারদের চাহিদাকে সামনে রেখে নগরে দুপুর হলেই শুরু হয় জিলাপি ভাজার প্রতিযোগিতা।

এ ক্ষেত্রে স্বাদে ও গুণে ভোজনরসিকরা এগিয়ে রাখছেন রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী শামীম সুইটসের বিশালাকার খানদানি জিলাপিকেই। রোজার প্রথম দিন থেকে নগরের সাহেববাজার বড় মসজিদের পাশে মিষ্টি ও নিমকির জন্য খ্যাত শামীম সুইটসে তৈরি হচ্ছে দেড় কেজি ওজনের খানদানি জিলাপি।রমজান মাসে রাজশাহীর রোজাদারদের জন্য এটা শামীম সুইটসের বিশেষ আকর্ষণ। ১২০ টাকা কেজি দরে প্রতিটি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে। মানুষ লম্বা লাইন দিয়ে কিনছেন সেই রসালো স্বাদের জিলাপি।

শামীম সুইটসের জিলাপির কারিগর অজয় কুমার জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে এই জিলাপি ভাজছেন। রমজানে রোজাদাররা পছন্দ করেন বলেই বিশালাকার এই জিলাপি শুধু রোজার মাসেই ভাজা হয়। এছাড়া ছোট ছোট জিলাপি ভাজা হয়। তবে রমজানে বড় জিলাপি বেশি চলে বলে জানান তিনি।

এছাড়া বাটার মোড়ের জিলাপি যেন এক ঐতিহ্যের নাম। ১৯৫২ সালে রাণীবাজার রেস্টুরেন্ট নামে যাত্রা শুরু করেছিলেন তমিজ উদ্দিন। তখন ওই দোকানে বিভিন্ন মিষ্টির সাথে ছিলো জিলাপি। ১৯৭৪ সালে তমিজ উদ্দিনের ছেলে সৈয়ব উদ্দিন অন্যান্য মিষ্টি বাদ দিয়ে শুধু জিলাপি ভাজা শুরু করেন।

তখন থেকে রাণীবাজার রেস্টুরেন্টে শুধুই জিলাপি ভাজা চলতে থাকে। দোকানের নাম বদলে এখন বাটার মোড়ের জিলাপি নামেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে দোকানটি। বর্তমানে তমিজ উদ্দিনের নাতি মোহাম্মদ সোহেল এই দোকানের পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

দোকানের শুরুতে জিলাপির প্রধান কারিগর ছিলেন জামিনী সাহা। এরপর তার ছেলে কালি বাবু এবং নাতি পরিমল যৌথভাবে এই জিলাপি ভাজার কারিগরের কাজটি করছেন। মালিক এবং কারিগর দুই পক্ষেরই তৃতীয় প্রজন্মে চলছে রাজশাহীর সবচেয়ে পুরোনো এই জিলাপির দোকানটি।বাটার মোড়ের জিলাপির দোকানের মালিক মোহাম্মদ সোহেল জানান, সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি কেমিকেল মুক্ত এই জিলাপি প্রতিদিন প্রায় দুই মণ বিক্রি হয়। রোজার মাসে প্রায় তিন মণ বিক্রি হয়।

তাদের জিলাপি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

খবরঃ বাংলানিউজ

6 thoughts on “রাজশাহীর খানদানি জিলাপি মন ভোলাচ্ছে রোজাদারদের

Comments are closed.