রাজশাহীর গলির আগুন নেভাবে স্পেশাল ফায়ার বাইক

রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

আঁকাবাঁকা ও ঘিঞ্জি গলি পথের আগুন নিয়ে চিন্তার অন্ত ছিলো না রাজশাহীবাসীর। শুষ্ক মৌসুম এলেই দৈব-দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন-রাত কাটতো সবার। কিন্তু সবার সেই দীর্ঘশ্বাস কমাতে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বহরে যুক্ত হয়েছে ‘ওয়াটার মিক্সড মোটরসাইকেল’। বিশেষায়িত এ মোটরসাইকেলকে বলা হচ্ছে ‘স্পেশাল ফায়ার বাইক’।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা যায়, সময়োপযোগী উন্নত সরঞ্জামাদি ক্রয়ের মধ্যদিয়ে যে কোনো অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছেন তারা। এরই অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট রাজশাহীর বহরে যুক্ত করা হয়েছে ৪টি স্পেশাল ফায়ার বাইক। তবে বাইকগুলো কেনা হয়নি। বন্ধুপ্রতিম চীন সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার (এসও) শরীফুল ইসলাম জানান, রাজশাহী বিভাগে এমন ৮টি বাইক বরাদ্দ পাওয়া গেছে ঢাকা সদর থেকে। এর মধ্যে পাবনায় দু’টি, বগুড়ায় দু’টি ও রাজশাহী সদরের জন্য চারটি বাইক বরাদ্দ করা হয়েছে।

শরীফুল ইসলাম জানান, মূলত আঁকাবাঁকা ও গলি পথের এলাকায় অনায়াসে ঢুকে আগুন নেভাতে সক্ষম এই ওয়াটার মিক্সড মোটরসাইকেল। সূচনালগ্নেই খবর পাওয়া গেলে সদর এলাকায় তেল বা যে কোনো আগুনের বড় ধরনের ক্ষয়-ক্ষতিও এড়ানো সম্ভব হবে এই বিশেষায়িত বাইক ব্যবহার করে।

২০ লিটার করে দু’পাশে মোট ৪০ লিটার পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এই বাইকে। পেছনে রয়েছে একটি ফ্রেশিয়ার। যা তীব্র চাপ সৃষ্টি করে পানি নিক্ষেপ করবে অগ্নিকুণ্ডে। পানির মধ্যে ফোম মিক্সড থাকায় তেলজাতীয় আগুনও নেভানো সম্ভব এই স্পেশাল বাইক দিয়ে। এর মধ্যে মিনি মাইক, সাইরেনও রয়েছে। এছাড়া মেগা ফোন সিস্টেম থাকায় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা সম্ভব।

এক প্রশ্নের জবাবে শরীফুল ইসলাম জানান, বাইক দু’টি যুক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো আগুন নেভানো হয়নি। তবে এগুলো দিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বর আগুন নেভানোর মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে চারজন ফায়ারম্যানকে।

রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ডিডি) নূরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও যুগোপযোগী অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির মাধ্যমে ফায়ার স্টেশনটিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার চেষ্টা চলছে। উন্নত দেশগুলোর অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর ধাঁচে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজশাহী টিমকেও ক্রমান্বয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও কিছু উন্নত সরঞ্জামাদি ক্রয়। অগ্নিকাণ্ড ঘটার পরই দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার সক্ষমতা অর্জন করছেন তারা।

এক্ষেত্রে ওয়াটার মিক্সড মোটরসাইকেল রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস বহরে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। যেসব এলাকায় আগুন লাগলেও গাড়ি ঢুকেতে পারতো না এখন সেসব এলাকার আগুনও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

একইসঙ্গে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।