রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অপারেশন ‘সান ডেভিল’ সমাপ্ত, পাঁচ জঙ্গির লাশ উদ্ধার

গোদাগাড়ী রাজশাহী

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অপারেশন ‘সান  ডেভিল’ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নিশারুল আরিফ শুক্রবার দুপুর দেড়টায় এক প্রেস বিকিং এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসপি নিশারুল আরিফ বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনে মত অপারেশন ‘সান ডেভিল’ শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনে জঙ্গি আস্তানার ভেতরে ১১টি বোমা ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। বোমা আর পিস্তল ছাড়াও দুটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে আস্তানার ভেতরে। আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও ১০টি বোমা নিষ্ক্রিয় করেন। বাড়ির ভেতরে নতুন করে আর কারও লাশ পাওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আগের দিন সকালে এই অভিযানে পাঁচজন নিহত হন, যারা সবাই জেএমবির সদস্য বলে পুলিশের ভাষ্য। তার আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা জঙ্গিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন এক দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন।

শুক্রবার দুপুরে জঙ্গি আস্তানার বাইরে পড়ে থাকা জঙ্গিদের লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর মাছমারা বেনীপুর গ্রামে ওই বাড়ি ঘিরে শুক্রবার পুনরায় অভিযান শুরুর আগে মাইকিং করে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দেয়া হয়। আশপাশের এক বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সবাইকে নিরাপত্তার স্বার্থে যার যার বাড়িতে অবস্থান করতে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি থেকে তথ্য পেয়ে বুধবার রাত ৩টার দিকে থানা পুলিশের সদস্যরা ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার জন্য হ্যান্ডমাইকে জঙ্গিদের আহ্বান জানানো হয়। জবাবে বাড়ি থেকে দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর পুলিশ সেখানে অভিযানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দমকল বিভাগের কর্মীরা ওই বাড়িতে পানি ছিটানো শুরু করলে এক শিশুকে কোলে নিয়ে আরেক বালককে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

এর কিছু সময় পর ওই বাড়ি থেকে দুই নারীসহ কয়েকজন বেরিয়ে আসে এবং বাইরে থাকা পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের হামলায় পুলিশ ও দমকল বিভাগের এক সদস্য আহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান দমকল বিভাগের ফায়ারম্যান আব্দুল মতিন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জঙ্গিরা ‘আত্মঘাতী’ হয়। তবে সংবাদ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের গুলি ছুড়তেও দেখা গেছে।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন- উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের মাছমারা বেনীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে ও জঙ্গি আস্তানার (বাড়ি) মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী লুৎফুন্নেছা বেলি (৪৮), ছেলে আল-আমিন (২৬), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) এবং বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৪)। আশরাফুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীপুরে। তবে তারা সবাই জঙ্গি এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দুই শিশু সন্তান জোবায়ের হোসেন (৭) ও তিন মাসের শিশু কন্যা সুরাইয়া আক্তার আফিয়া এবং তাদের মা সুমইয়া খাতুনকে (২৮)। সুমাইয়া জঙ্গি সাজ্জাদের বড় মেয়ে। সুমাইয়ার স্বামী জহুরুল ইসলামকে (৩০) গত গ্রায় ছয় মাস আগে জেএমবি সংশ্লিষ্টতা অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারকৃত এই জেএমবি সদস্যের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয় বলে জানায় পুলিশ।

খবরঃ আমাদেরসময়