রাজশাহীর জনজীবন বিপর্যস্ত হাড় কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে

রাজশাহী

শীতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা হয়েছে রাজশাহীর সাধারণ মানুষের। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।এর আগে গতকাল শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) ছিল ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে আজ তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। কিন্তু শীতের প্রকোপ কমেনি।

এদিকে সকাল সোয়া ১১টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের দেখা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, শনিবার সকাল ৭টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখনও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মূলত এখন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। এজন্য রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চলে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আজ ভোর ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৯৬ শতাংশ।আবহাওয়া কর্মকর্তা লতিফা হেলেন বলেন, ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এর আগে চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ২৯ ডিসেম্বর ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে প্রতিদিন তাপমাত্রা কম থাকায় রাজশাহীতে কমছে না শীতের তীব্রতা। আজও সকাল থেকে তীব্র কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে প্রকৃতি। সকাল সোয়া ১১টা পর্যন্ত আকাশে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। উত্তরের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে কাঁপছে ছিন্নমূল মানুষ। শীতের তীব্রতায় রাজশাহীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এগিয়ে আসলে শীতার্ত মানুষ এই শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে নিদারণ দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
মহানগরসহ রাজশাহী অঞ্চলের হাট-বাজারে গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের

ভিড় অনেক বাড়ছে। শীতবস্ত্র কিনতে প্রতিদিনই মহানগরের ফুটপাতে নিম্ন
আয়ের লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন। তবে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষরা যেতে পারছেন না কোনো দোকানেই। অনেকেই তাকিয়ে আছেন সমাজের বিত্তবান ও
সরকারি সহায়তার দিকে। তবে ইতোমধ্যেই সরকারি-বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ডিডি) ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, বর্তমানে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।