রাজশাহীর দুর্গাপুরে র‌্যাফেল ড্র’র নামে কোটি টাকার বাণিজ্য

দুর্গাপুর রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

দুর্গাপুরের উজানখলসীতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছে র‌্যাফেল ড্র। ‘দৈনিক ধানশালিক’ নামের ওই র‌্যাফেল ড্রতে প্রতি রাতে চলছে কোটি টাকার বাণিজ্য। সরকারি দলের কয়েকজন স্থানীয় নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় গত এক সপ্তাহ ধরে এভাবে র‌্যাফেল ড্র’র নামে বাণিজ্য চললেও যেন দেখার কেউ নাই। এতে করে একদিকে যেমন যুব সমাজের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটছে, তেমনি ভাবে লটারী নামের ওই জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

এদিকে, ওই র‌্যাফেল ড্র’র নামে চালানো লটারী বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্গাপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ দারা। রোববার উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

উজালখলসী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কিসমত গনকৈড় ইউপির উজালখলসী এলাকায় ঘোড়াদহ মেলার নামে প্রতি বছর বাংলা সনের আশ্বিন মাসের শেষ দিনে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা বসানোর কথা বলা হলেও যাত্রাপালা, ভ্যারাইটি শো ও র‌্যাফেল ড্র’র আয়োজন করা হয়েছে। মেলা আয়োজক কমিটির লোকজন প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি না পেলেও গোপনে চালাচ্ছে র‌্যাফেল ড্র।
দৈনিক ধান শালিক নামের ওই র‌্যাফেল ড্র’র প্রায় দেড়শ জন কর্মী প্রতিদিন দুর্গাপুর এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী এলাকা গুলোতে লোভনীয় পুরস্কারের কথা বলে টিকিট বিক্রি করছে। এ জন্য মেলা আয়োজক কমিটির লোকজন প্রতি রাতে মোটা অংকের কমিশন পেয়ে থাকে। অপরদিকে লোভনীয় পুরস্কারের কথা শুনে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ টিকিট কিনছেন। বাদ যাচ্ছেন না গৃহবধূরাও। স্বামীর অজান্তেই টিকিট কাটছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সংসারে কলহ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, টিকিট কাটার টাকা জোগাড়ে শিশু কিশোররা জড়িয়ে পড়ছেন নানা অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে।

উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ওই লটারীর টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় দেড় শতাধিক কর্মী প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইক নিয়ে টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে র‌্যাফেল ড্র দেখতে গিয়ে দেখা গেল খেলা চলাকালীন দুই ঘণ্টা ধরে ১০ বছরের একটি ছোট্ট শিশুর চোখ গামছা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে এই টিকিট তোলার কাজ করানো হচ্ছে। আর এই কাজটিকে অনেকই শিশু অধিকার আইনের পরিপন্থি বলে মনে করছেন।
আরো জানা গেছে, ওই র‌্যাফেল ড্র’র মালিক কুষ্টিয়ার পোড়াদহ এলাকার জুয়াড়ী সেন্টু মিয়া। তিনি দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে ঘুরে শুধু র‌্যাফেল ড্র খেলার আয়োজন করে থাকেন। প্রতিদিনি ৪০ জন মহিলা ও ১০০ জন পুরুষ কর্মী রয়েছে টিকিট বিক্রির জন্য। ২০ টাকা মুল্যে কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করা হলেও দর্শকদের জন্য রাখা হচ্ছে মাত্র ৩১টি সান্ত¡না পুরস্কার। অবশিষ্ট টাকা লুটপাট করা হচ্ছে এমন অভিযোগ ওই এলাকার সাধারণ মানুষের। এভাবে গত এক সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন লটারী মালিক সেন্টু মিয়া।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে ওই লটারীর বৈধতা আছে কিনা। বৈধতা না থাকলে সেটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

দৈনিক সানশাইন