রাজশাহীর পুষ্পমেলায় ২৬৫ প্রজাতির গোলাপ!

রাজশাহী

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হয়তো গোলাপ ফুলের জুড়ি নেই, তাই হয়তো অন্য কোন ফুলের নামে দিবস পালিত হয় না। কিন্তু ৭ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় রোজ ডে। এদিন ভালোবাসার মানুষকে গোলাপ ফুল উপহার দেন অনেকেই। এছাড়াও গোলাপের বিশেষত্ব এটা সব ঋতুতেই পাওয়া যায়। সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে গোলাপ না থাকলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয়স্থানেই চলে আসে গোলাপের নাম। সর্বজন সমাদৃত সেই গোলাপের ২৬৫ প্রজাতির দেখা মিলবে রাজশাহীর সিএন্ডবি মোড়স্থ মনিবাজারের চলমান পুষ্পমেলায়।

মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের মূলে রয়েছে গোলাপ। একখন্ড গোলাপের রাজ্য নিয়ে স্টল সাজিয়েছেন আহম্মেদ ভিলা স্টল’র মালিক ইসমাইল হোসেন। মেলার শুরুতে স্টল সাজানো হয়েছিল ২৬৫ প্রজাতির গোলাপ দিয়ে। মেলার তৃতীয় দিনে এসে ১৯৫ প্রজাতির গোলাপ রয়েছে বলে জানান তিনি।

২৬৫ প্রজাতির গোলাপের মধ্যে রয়েছে লাল, সাদা, গোলাপি, নীল ও হলুদ রঙের রক্ত গোলাপ, কাঠ গোলাপ, প্যারাডাইস, টকটকে লাল কুইন, ডায়মন্ড আর গাঢ় গোলাপি রঙের সিটিবেল, কালো রঙের গোলাপের বিভিন্ন জাত। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন বিদেশী জাতের গোলাপ। এসবের মধ্যে আমেরিকান ও কাশমির প্রজাতির গোলাপ ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করছে। এসব প্রজাতির ডাবল বাল্ক, রামবা, নীল ডাইমোন, প্যারাডাইস বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।

আহম্মেদ ভিলা স্টল মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা প্রতিবছর ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করি। যার ফলে আমাদের স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষনের কেন্দ্রে থাকে। আমাদের এখানে ২৬৫ প্রজাতির গোলাপ আছে, যা অন্য কোন স্টলে নেয়। ক্রেতারা তাদের ইচ্ছেমতো পছন্দের গোলাপ গাছ কিনছেন।
এছাড়াও মেলা প্রঙ্গনে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ, গাঁদা, জবা, রজনীগন্ধা, শিউলি, ডালিয়া, বেলি, সূর্যমুখি, কসমস, পপি, প্যানাজি, ভারবেনা, অর্কিড, এন্টিরাইনাস, বেগুনিয়া, ইফুরভিয়া, ক্যামেলিয়া, গজেনিয়া, নেস্টিসিয়াম, সিলভিয়া, জিনিয়া, ডানথ্রাসসহ দেশী-বিদেশী হাজারও প্রজাতির ফুল। আর সেই ফুলের উপর ভ্রমরের আনাগোনা জানান দিচ্ছে- সেখানে সৌরভ ছড়াচ্ছে ছোট্ট এক পুষ্পরাজ্য। এ ফুল থেকে ঐ ফুলে ছুটে বেড়াচ্ছে ভ্রমর। ভ্রমরের মতই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ঘুরছেন ফুলপ্রেমীরা। কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা কিনবেন এ নিয়ে চলছে বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা। পছন্দের স্টল ও পুষ্পরাজির সঙ্গে সেলফি অথবা ছবি তুলতেও ভুলছেন না দর্শনার্থীরা।

মেলায় এসে ফুলের সাথে একাত্বতার পাশাপাশি ছোট শিশুদেরকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সাথে পরিচয় করাতে অনেকেই পরিবারসহ পুষ্পমেলায় আসছেন। তেমনি একজন মিলি খাতুন। ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছেন তিনি।

মিলি খাতুন বলেন, আমি আগে ঢাকায় থাকতাম। দুই মাস আগে রাজশাহীতে এসেছি। আর পুষ্পমেলায় ছেলেকে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে সে ফুল সর্ম্পকে জানতে পারবে। আমি মূলত গৃহীনি। আমি বাগান করতে ভালোবাসি। আর বাগানের মধ্যে ফুলতো থাকবেই। আর ফুলের মধ্যে গোলাপ না থাকলে তো বাগানই মানায় না। আমার ছাদে অনেক গাছ আছে। মেলায় গোলাপের স্টলটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। এখানে যদিও গোলাপ ছাড়া অন্য কোন ফুল নেয়, তবে প্রতিটি গাছের নামসহ পরিচিতি লেখা আছে। এতে আমার ছেলের মতো অনেকেই ফুলের নামগুলো ভালোভাবে জানতে পারবে।
মেলায় ঘুরতে আসা শিউলিসহ তার বান্ধবীরা জানান, আমরা কলেজ শেষে পুষ্পমেলায় ঘুরতে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। অনেক প্রজাতির ফুল আমাদের মুগ্ধ করেছে। মন চাচ্ছে সবফুল কিনে নিয়ে যাই। বান্ধবীরা সবাই মিলে অনেক ছবি তুললাম। আমরা এমন আয়োজনকে স্বাগত জানায়। এছাড়াও মেলার তৃতীয় দিনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

প্রসঙ্গত, বৈকালী সংঘের আয়োজনে ৫ দিনব্যাপি ওয়ান ব্যাংক পুষ্পমেলা নগরীর সিএন্ডবি মোড়স্থ মনিবাজার চত্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় ২৪টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন