রাজশাহীর ভূমি অফিসে বাইরে নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড, ভেতরে চলছে কাজ

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন কয়ের দাঁড়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও সপুরা ভূমি অফিসের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস, গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন আবেদন করেছেন মামলার বাদি শাহরিয়ার শওকত।

নগরীর সপুরা কয়ের দাঁড়া এলাকার কাদিয়ানা মসজিদের কাছে জে.এল.নং-সাবেক ১১০ হাল, এসএ খং নং ১১০, এসএ দাগনং ১০২ আরএস খং নং ১, আরএস দাগ নং ২২০ ধানী দশমিক ২৫৩৭ শতাংশ বাড়িসহ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন শহরিয়ার শত্তকতসহ তার পরিবার ও বংশের লোকজন। জমিটি তার পিতার পৈত্রিক সম্পত্তি বলেও জানতেন।

কিন্তু দেশে ২০১১ সালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় এটি খাস জমির খতিয়ান ভুক্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে শাহরিয়র শওকত ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এ ব্যাপারে তারা জেলা জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। যেটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরে সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সপুরা ভূমি অফিসের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। কাজ বন্ধের জন্য আবেদন করলে আদালত সেখানে উভয় পক্ষকে কোন কাজ করতে নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ চলতে থাকে।

পরে শাহরিয়ার শওকত হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ২১ মার্চ তপশীল সম্পত্তিতে নির্মাণ কাজ বারিত করিয়া ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এ নিষেধাজ্ঞা বিষয়টি জানিয়ে ও ভুমি অফিসের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে জেলা প্রশাসক, বোয়ালিয়া ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার ও গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরারর আবেদন করেন শাহরিয়ার। সেই সময় কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিলো।

এরপরে চলতি বছর ২২ আগস্ট আবারও উচ্চ আদালত এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ভুমি অফিসের বাইরে আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইন বোর্ড টাঙানো থাকলেও ভেতরে লোক চক্ষুর আড়ালে ঠিকই কাজ নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদি শাহরিয়ার শওকত।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড ঠিকই ঝোলানো আছে। কিন্তু ভেতরে ভবন নির্মানের কাজ ঠিকই চলছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর সাইনবোর্ড ঝুলানো অবস্থায় ভবনটি অর্ধনির্মিত হয়ে ছিলো। কিন্তু লোক চক্ষুর আড়ালে ভবনটিতে প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন ঠিকাদার। সম্প্রতি ভবনের জানালাগুলোতে থাই গ্লাস লাগানো হয়েছে। উপরে বসানো হয়েছে পানির ট্যাংকি। শুধু তাই না ভবনটি রং ও করা হয়েছে।

ভবনটি নির্মানের দায়িত্বে পেয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। এ বিষয়ে রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হুমায়ন কবির দাবি করে জানান, নিষেধাজ্ঞার পরে কোন কাজ হয়নি। যদি কাজ চলতো তাহলে ভবনটি এতোদিনে নির্মাণ হয়ে যেতো।
তিনি আরো জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরে তিনি নিজে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়ে এসেছেন। এরপরে সেখানে আর কোন কাজ হয়নি বলে তিনি দাবি করেছেন।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন