রাজশাহীর স্বর্ণালীকে হাসপাতালে ভর্তি

পবা রাজশাহী

‘মুক্তামণি’র মতো বিরল রোগে আক্রান্ত রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের টেকাটাপাড়া গ্রামের শিশু স্বর্ণালীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহীর সিভিল সার্জনের তত্বাবধানে মঙ্গলবার দুপুরে স্বর্ণালীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এখন সে রামেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন প্রাথমিক অবস্থায় তার সবরকম পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হবে। এরপর তার চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বর্ণালীকে ঢাকাতেও স্থানান্তর করা হতে পারে। তার হাতে যে রোগের লক্ষণ তা মুক্তামণির মতো কিনা তাও মিলিয়ে দেখা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে মুক্তামণির হাতের যে রোগ স্বর্ণালীর হাতেও একই রোগের লক্ষণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

এরআগে সকালে স্বর্ণালীকে নিয়ে আসা হয় রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে। সেখানে সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার শাহা ছাড়াও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে স্বর্নালীর হাতের রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। এসব বিষয়ে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকেও সব খোঁজ খবর নেয়া হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। গত সোমবার স্বর্ণালীকে নিয়ে সানশাইনসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ নিয়ে খোজ-খবর শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরপর সিভিল সার্জনের উদ্যোগে মঙ্গলবার স্বর্ণালীকে নিয়ে আসা হয় সিভিল সার্জণের কার্যালয়ে। সেখান থেকে ভর্তি করে দেয়া হয় রামেক হাসপাতালে।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার শাহা জানান, স্বর্ণালীর হাতের সব ধরনের চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে রাজশাহীতে নিয়ে এসে পরীক্ষা-নিরিক্ষা শুরু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দেখছেন। তাদের পরামর্শক্রমে যদি সম্ভব হয় তাহলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলবে। যদি আরো উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে ঢাকায় পাঠানো হবে। মুক্তামণিকে যেভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে স্বর্ণালীকেও প্রয়োজনে সেভাবে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলা হবে। তার সুস্থ্য হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন স্বাস্থ্য বিভাগ তা করবে বলেও জানান, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার শাহা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, স্বর্ণালীর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, জন্মের সময় ছোট কালো দাগ থেকে স্বর্ণালীর পুরো হাতেই ছড়িয়ে পড়েছে বিরল এ রোগ। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েন স্বর্ণালীর বাবা-মা। স্বর্ণালীর বয়স এখন ১২ বছর। স্থানীয় নোনামাটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। তার বাবা আবদুল মান্নান দুর্গাপুরের দাওকান্দি কলেজের পিওন ও মা রুমা বেগম গৃহীনি। স্বর্ণালীর ডান হাতে জন্মের পর থেকে কালো দাগ থেকে এ রোগের উৎপত্তি।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন