রাজশাহীর হাটে আমদানি বাড়লেও ক্রেতা নেই

রাজশাহী

রাজশাহীর খামারগুলোতে এবার রয়েছে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর পশু হাটগুলো ইতিমধ্যে জমতে শুর্ব করেছে। হাটে পর্যাপ্ত পশুর আমদানি থাকলেও বন্যাসহ নানা কারণে এখনও বাইরের ক্রেতার দেখা নেই। ভারতীয় গর্ব আসার খবরে খামারিরা হতাশ।

ঈদুল আজহা’র বাকি আর ১৫ দিন। ঈদকে সামনে রেখে এই অঞ্চলের পশুহাট গুলো জমে উঠতে শুর্ব করেছে। রাজশাহীতে পশুহাটগুলোর মধ্যে মহানগরীর সিটিহাট, মহিশালবাড়ি, নওহাটা, কাকন, মচমইল, কেশরহাট, ভবানিগঞ্জ, বানেশ্বরহাটসহ প্রায় ৩৯টি ছোটবড় পশুহাট রয়েছে। এই হাটগুলোর সাথে সংশিৱষ্টরা জানান, ঈদুল আজহা উপলৰে হাটগুলোতে কোরবানির পশু ইতোমধ্যেই আসতে শুর্ব করেছে। এখন পর্যন্ত হাটগুলোতে ভারতীয় গর্ব-মহিশের আমদানী তেমন নেই। খামারের এবং কৃষকের বাড়ির পশুই প্রাধান্য পাচ্ছে। কোরবানির পশুর আমদানি বাড়লেও ক্রেতার দেখা নেই।
গতকাল বুধবার নগরীর সিটিহাটে গিয়ে দেখা গেছে হাটে প্রচুর পরিমাণে খামারের গর্ব আমদানি হয়েছে। ঢাকা- সিলেটসহ অন্যান্য জেলার ব্যবসায়িরা এখান থেকে গর্ব কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু বন্যাসহ নানা কারণে বাইরের ক্রেতার অভাবে বিক্রি ভাল না হওয়ায় খামারিদেরকে বাড়িতে গর্ব ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

সিটিহাটের মালিক পৰের আতিকুর রহমান কালু জানালেন, হাটে খামারের গর্বর আমদানি প্রচুর। দামও গতবারের মতই। তবে বেচাকেনা এখনও জমে ওঠেনি। বন্যাসহ নানা কারণে বাইরের ক্রেতারা এখনও সেভাবে আসছেনা। ঈদ উপলৰে আগামী রোববার থেকে সিটিহাটে প্রতিদিন পশু কেনাবেচা বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। আগামী হাট থেকে পশুর আমদানিও আরো বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে নওহাটা পশুহাটের মালিক পৰ হাটে পশু আমদানি বৃদ্ধির লৰ্যে গতকাল থেকে এলাকায় মাইকিং শুর্ব করেছে। এই হাটে বেশি আমদানি হয় ছাগলের। বর্তমানে তুলনামূলক কমদামে ছাগল বিক্রি হচ্ছে বলে জানান সংশিৱষ্টরা।
পবার মিয়াপুরের গর্বর খামার পিওর হারভেস্ট এর সত্ত্বাধিকারী ডা: তালহা জামিল জানান, তার খামারে বর্তমানে ৮০টি কোরবানি করার মত দেশিসহ বিভিন্ন জাতের গর্ব রয়েছে। যার এক একটির দাম ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ঈদকে সামনে রেখে তার খামারে ক্রেতারা আসতে শুর্ব করেছে। তিনি বলেন, এই এলাকায় খামার ও কৃষকের বাড়িতে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। এই অবস্থায় শোনা যাচ্ছে চাপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন খাটাল দিয়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার গর্ব-মহিষ আসছে। ঈদের আগে এভাবে ভারতীয় পশু আসলে এই অঞ্চলের খামারিদেরকে লোকসান গুনতে হবে। তিনি খামারিদের রৰায় সরকারের হস্তৰেপ কামনা করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জুলফিকার মো: আকতার হোসেন বুলবুল বলেন, রাজশাহী জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার। এর বিপরিতে এখানকার খামার ও কৃষকের কাছে কোরবানির পশু রয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার। যার মধ্যে গর্ব ৫৭ হাজার ৫১৩টি এবং ছাগল ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০টি। এখানে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৯ হাজার বেশি কোরবানির পশু রয়েছে। গতবার রাজশাহীতে পশুর চাহিদা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার। এর বিপরীতে পশু ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার। বাড়িতে বা খামারে পশু পালন লাভজনক হওয়ায় এদিকে ঝুঁকছেন এই এলাকার মানুষ। ঈদের আগে বাইরে থেকে কোরবানির পশু আসলে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়বেন। লোকসানের হাত থেকে খামারিদের রৰায় দ্র্বত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপৰকে জানানো হয়েছে।

তাছাড়া হাটগুলোতে যাতে অসুস্থ পশু কেনাবেচা না হয় তা দেখার জন্য প্রশিৰিত সদস্যদের সমন্বয়ে ভেটেরিনারি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাটে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় পশুহাট জমিয়ে তুলতে হাট ইজারাদাররা প্রচার প্রচারণা শুর্ব করেছেন। ইজারাদাররা বলছেন, এখন থেকে প্রতি হাটেই হাটগুলোতে পশুর আমদানি বাড়বে। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর পশু হাটগুলো জমে উঠতে শুর্ব করেছে।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

2 thoughts on “রাজশাহীর হাটে আমদানি বাড়লেও ক্রেতা নেই

Comments are closed.