রাজশাহীর হাসপাতালে বাড়ছে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ

রাজশাহী

সামান্য বিরতি দিয়ে রাজশাহীর তাপমাত্রার পারদ আবারো নিচে নেমেছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এ ওঠানামায় আবহাওয়া অফিসের খাতায় সংখ্যা বদল হলেও শীতের কোনো হেরফের ঘটছে না পদ্মাপাড়ের এ শহরে। গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। এরমধ্যে কেবল দু’দিন তাপমাত্রা বেড়েছিল প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের প্রকোপ কমেনি। এছাড়া, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধানও ধীরে ধীরে কমে আসছে রাজশাহীতে।

ফলে শৈত্যপ্রবাহের ধকল সামলাতে পারছেন না রাজশাহীর ছিন্নমূল মানুষ। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর, রৌদ্রহীন সকাল, আর হাড় হিম করা দীর্ঘ রাত নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তারা।

দিন-রাত সমানতালে হু হু করে বইছে ঠাণ্ডা বাতাস। টানা শৈত্যপ্রবাহে প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ।

মঙ্গলবার সকালে রামেক হাসপাতালের বহির্বভাগ ও জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়া এবং বৃদ্ধদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে এ শীতে।

ফলে রামেক হাসপাতালে বর্তমানে শিশু এবং হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা অন্য ওয়ার্ডের চেয়ে তুলনামূলক বেশি বলে লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া ঠাণ্ডাজনিত কারণে সর্দি-জ্বর-কাশি ও অ্যাজমাজনিত কারণে শ্বাসকষ্ট নিয়েও অনেকে মেডিসিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা কাটাখালী এলাকার আফরোজা আক্তার জানান, তার শিশুর বয়স বর্তমানে সাড়ে চার মাস। ঠাণ্ডাজনিত কারণে সোমবার রাত থেকে হঠাৎ তার শিশু পাতলা পায়খানা ও বমি করছে। এ কারণে তিনি জরুরী ভিত্তিতে তার শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

চিকিৎসা শুরুর পর তার শিশুর অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে তাকে আরও একদিন শিশুকে নিয়ে এ হাসপাতালেই থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা নওদাপাড়া এলাকার তাসলিমা ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনে ঠাণ্ডার পর তার এক বছরের শিশুর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এরপর তাকে রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এখানে নেবুলাইজেশনের পর তার শিশু এখন অনেকটাই ভালো আছে।

জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ডিডি) ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, প্রতি বছরই শীত মৌসুমে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকে। বিশেষ করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এরমধ্যে নিউমোনিয়া ও কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সবরকম ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাড়তি চাপ পড়লেও কোন সমস্যা হচ্ছে না। ইতোমধ্যে চারটি ওয়ার্ডে ৩০টি রুম হিটার লাগানো হয়েছে।

এছাড়া, সব ধরনের প্রস্তুতি থাকায় চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান হাসপাতাল উপ-পরিচালক।

এদিকে, রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার সকাল ৮টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে গতকালের চেয়ে আজকে ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আরও কমেছে।

মূলত রাজশাহীর ওপর দিয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এর মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

২১ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে ২২ ডিসেম্বর আবার সেই তাপমাত্রা কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর গতকাল ২৩ ডিসেম্বর আবারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবেই রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠানামা করছে।

১৯ ডিসেম্বর থেকে রাজশাহীতে সূর্যের মুখ দেখা মিলছিল না। টানা চারদিন পর সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে দেখা মেলে সূর্যের। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের পর থেকে রাজশাহী শহর কুয়াশায় ঢাকা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে আবারও সূর্যের আলো দেখা যায়। তবে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ