রাজশাহীর হেলেনাবাদ কলোনির ঝুঁকির মধ্যে ১৩২ পরিবার

রাজশাহী

একটু জোরে কোন আওয়াজ হলেই ভয়ে আঁতকে উঠতে হয়। রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না। এমন কথা শোনা গেল কলোনীর ৮ম শ্রেণীর এক শিশুন মুখে। নগরীর হেলেনাবাদ সরকারী কলোনির বেশীর-ভাগ ভবণ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অর্ধশত বছর আগের পুরনো (পাকিস্তান আমল) ভবণগুলিতে জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নারী শিশুসহ ১৩২টি পরিবার। কিন্তু গনপূর্ত বিভাগের কোন উদ্যোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগ-১ রাজশাহীর চরম অবহেলায় ভবণগুলোতে বটগাছের মোটা মোটা শিকড় দেয়াল ভেদ করে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেছে। এতে করে ছাদ ও ঘরের দেয়াল চুঁইয়ে পানি পড়ে। পানির কারণে ছাদের রডের টেম্পার কমে গেছে। ঘরের ভিতরে ছাদ ও দেয়াল এবং বাইরের সানসেট থেকে মাঝে মধ্যেই ভেঙে ভেঙে পৱাষ্টার খসে পড়ে। সেখানে তিনতলা বিশিষ্ট মোট ১২টি ভবণ রয়েছে। এ টাইপের ৬টি এবং বি টাইপের ৬টি। বর্তমানে সব চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৫ ও ৬ নম্বর দু’ভবণ। যে কোন সময় অনাকাঙিৰত ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কলোনিবাসী। বড় ধরনের কোন ভুমিকম্প হলে ঢাকার রানা পৱাজার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। গত ২৭ আগষ্ট কলোনির ৬ নম্বর ভবণের সিঁড়ির সামনের ল্যান্ডিংয়ের আনুমানিক ৭ বাই ৫ ফুটের একটি ছাদ ধ্বসে পড়েছে। এতে করে অল্পের জন্য প্রাণে রৰা পান ভবণের বাসিন্দারা। তবে বার বার বেঁচে যাবেন এমনটা বলা যায় না।

১৯৬২ সালে (পাকিস্তান আমলে) সেখানে দুই ইউনিটের ১০টি ভবণ নির্মিত হয়। আর দুটি ভবণ নির্মিত হয় স্বাধীনতার পরে। ৫৪ বছর ধরে ভবণগুলো অবহেলার সংস্কার নিয়ে দাড়িয়ে থাকলেও বর্তমানে মারাত্মক ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও কলোনীর চতুর্দিকে দূর্গন্ধ, ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ জমে রয়েছে। কলোনীবাসির ধারণা, স্থানীয় একটি মহল এই আবর্জনা ফেলে একরকম দখল প্রক্রিয়া শুর্ব করেছে। এছাড়াও কলোনীতে বহিরাগত মাদকাসক্তদের সব সময় আড্ডায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কলোনীবাসি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন কলোনিবাসি বলেন, কলোনিতে বসবাসরত বেশীরভাগ লোকজন সরকারী চাকুরিজীবী। কলোনি থেকে নিজেদের কর্মস্থান এবং বাচ্চাদের স্কুল, কলেজ কাছে হয়। এ কারণে তারা তুলনামূলকভাবে ভাড়া বেশী দিয়ে সেখানে থাকেন। কলোনিটি যদি বসবাসের অযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে বসবাসের অযোগ্য ঘোষণা করা হোক, অথবা যথাযথভাবে সংস্কার করে যদি বসবাসযোগ্য হয় তাহলে দ্র্বত সংস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়াও তারা বলেন, হেলেনাবাদ কলোনি একটি সংরৰিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বহিরাগত ও বখাটে ছেলেরা কলোনি চত্বরে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালায়, ক্লাব মাঠে দিবা-রাত্রি আড্ডা মারে এবং মাদক সেবনের কারণে সেখানে বসবাসরত ছেলে-মেয়েরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। কলোনির বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে পকেট গেট করেছে স্থানীয় লোকজন। তারা কলোনির ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় নোংড়া আবর্জনা ফেলে স্তুপ তৈরি করেছে। এ কারণে কলোনির পরিবেশ নষ্ট হচেছ। এ ব্যাপারে গত ২৮ মে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সংশিৱষ্ট কর্তৃপৰ।

এ বিষয়ে গনপূর্ত বিভাগ-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী এমদাদ ও সাইদুর জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সংশিৱষ্ট দপ্তরে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি)) প্রেরণ করা হয়েছে। সেখানে এপিপি পাশ হলে আগামী আড়াই থেকে তিনমাসের মধ্যে সংস্কার করা সম্ভব হবে এবং ৬ মাস পর পর বিল্ডিং-এর বটগাছগুলো কাটা হয়। সমপ্রতি আবারো গাছগুলো কাটা হবে। এছাড়াও ভবনগুলো বসবাসের অযোগ্য ঘোষনার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরিফ বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। সেখানে সম্ভবত সংস্কার সঠিকভাবে হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না আমি অফিশিয়ালি গণপূর্ত-এর কাছে সেটি জানতে চাইবো। আর যদি ভবণগুলো অযোগ্য ঘোষণা করার মত হয়, তাহলে সেখানে বসবাস করা যাবে না সেটি আমাদেরকে আগে নিশ্চিত করতে হবে।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

1 thought on “রাজশাহীর হেলেনাবাদ কলোনির ঝুঁকির মধ্যে ১৩২ পরিবার

Comments are closed.