রাজশাহীর ৬০ শতাংশ সড়ক খারাপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নওগাঁ নাটোর পাবনা রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহীর ৬০ শতাংশ সড়কই ভাঙাচোরা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ জরিপেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। যদিও গত পাঁচ বছরে সড়ক উন্নয়নে ৩ হাজার ৫২০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায়।

অভিযোগ রয়েছে, সড়ক উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট। একই সঙ্গে সংস্কারের নামে প্রতিবছরই বিপুল অর্থ নয়ছয়েরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ সওজের কর্মীরা।

তারা বলছেন, বর্তমানে এ অঞ্চলের সড়কগুলো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভালো। এইচডিএমএর ওই জরিপ কয়েকবছর আগের। এরপর সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক কাজ হয়েছে। এখন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট।

রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা নিয়ে সওজের রাজশাহী জোন। সওজের এই জোনের দেয়া তথ্যমতে, এ অঞ্চলে মোট সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে দুই হাজার ৪৭৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে এক হাজার ৪৯১ কিলোমিটারই জেলা সড়ক। আঞ্চলিক মহাসড়ক রয়েছে ৬০৮ কিলোমিটার। এছাড়া ৩৩৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক।

এইচডিএম এর ওই জরিপ অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়কগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ ভাঙাচোরা। এইচডিএম এ অঞ্চলের ৩৮১ কিলোমিটার জাতীয় সড়কে জরিপ পরিচালনা করে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ১১১ কিলোমিটারই ভাঙাচোরা। ব্যবহার অনুপযোগী পর্যায়ে চলে গেছে নয় কিলোমিটারের বেশি সড়ক। আঞ্চলিক ও জেলা সড়কগুলোর অবস্থা আরও নাজুক। জরিপ চালানো ৩৭৭ কিলোমিটারের ২৫৫ কিলোমিটারই ভাঙাচোরা। খারাপ অবস্থায় রয়েছে ৩৭ কিলোমিটার সড়ক।

অন্যদিকে ১০০ কিলোমিটার জেলা সড়কে জরিপ চালিয়ে ৭০ কিলোমিটারই ভাঙাচোরা দেখা যায়। আর খারাপ অবস্থায় চলে গেছে আট কিলোমিটার। ভালো অবস্থানে রয়েছে দুই কিলোমিটার আর চলাচল উপযোগী অবস্থায় রয়েছে ১৯ কিলোমিটার জেলা সড়ক।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে জরিপটি পরিচালনা করে এইচডিএম। এর দুই বছর পরও রাজশাহী অঞ্চলের সড়কগুলোর অবস্থা খুব একটা পাল্টায়নি।

সওজ বলছে, গত পাঁচ বছরে (২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর) রাজশাহী অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে এডিপির আওতায় বাস্তবায়ন হয়েছে ১৯ প্রকল্প। এর মধ্যে সর্বশেষ দুই অর্থ বছরে বাস্তবায়িত হয়েছে দুটি করে চার প্রকল্প। এ পাঁচ বছরে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। তার পরও ভাঙাচোরা সড়ক অঞ্চলটির সর্বত্রই।

এ বছর রাজশাহী অঞ্চলের ৭০৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক জোড়াতালিতে ব্যয় হয়েছে ৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। জরুরি মেরামতের নামে এ অর্থ ব্যয় করেছে সওজ। এবারের বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক। এর মধ্যে ২৩৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জে। এরপরই রয়েছে নাটোর। সেখানকার ১৬৪ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পাবনায় ১৪৮ কিলোমিটার, নওগাঁয় ৯৪ কিলোমিটার, রাজশাহীর ৫৭ কিলোমিটার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সিরাজগঞ্জের সড়কগুলোর পেভমেন্ট ও সোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রিজ ও কালভার্টের অ্যাপ্রোচ সড়ক। একই দশা পাবনা, নওগাঁ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সড়কগুলোর। তবে বন্যা, টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারি যান চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাটোরের সড়কগুলো। এতে দেবে গেছে পেভমেন্টের বিভিন্ন অংশ। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য খানাখন্দ।

jagonews24

সড়ক সচলে ইট-বালি ফেলতেই খরচা হচ্ছে ৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জেই ব্যয় হচ্ছে ১৪ কোটি টাকা। এছাড়া নওগাঁয় ১০ কোটি ১০ লাখ, পাবনায় ৮ কোটি ১৬ লাখ, নাটোরে ৭ কোটি ৬০ লাখ, রাজশাহীতে এক কোটি ৩৫ লাখ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটির গোদাগাড়ী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সংস্কারে গত জুনেই ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি টাকা। কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মেরামত করা কয়েকটি স্থানে গর্ত হয়ে গেছে। দেবে গেছে আরো কয়েকটি স্থান। স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি মেরামতের নামে ৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু এসব অর্থের বড় অংশই তছরুপ করেছে সওজের কর্মকর্তারা

এদিকে রাজশাহীর পুঠিয়াতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে জরুরি মেরামত করা হচ্ছে কিছুদিন ধরে। স্থানীয়রা জানান, মেরামত কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থের অধিকাংশই হরিলুট হচ্ছে এখানে। সওজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ঠিকাদাররা লুটে নিচ্ছেন এসব অর্থ।

পুঠিয়ার লোকজন জানান, পুঠিয়া বাজারের উপর সড়কে মেরামতের কাজে চলছে লুটের উৎসব। এখানেও ইট বালু ফেলে তুলে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের বিল।

জরুরী মেরামতের নামে অর্থ জলে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সওজের রাজশাহী জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন। তিনি বলেন, সড়কগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জোড়াতালি দিয়ে টেকানো সম্ভব নয়। কারণ অধিকাংশ সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। বারবার মেরামতের ফল মিলছেনা। এনিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দেন তিনি।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে তারা ব্যাটস ও বালু দিয়ে প্রাথমিকভাবে সড়কগুলো মেরামত করছেন। কোথাও কোথাও এইচবিবি ছাড়াও সুরক্ষা কাজ হচ্ছে। কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে সে জন্যই এ মেরামত। এ কাজ চলমান।

কেবল বন্যা নয় বৃষ্টিতেই এ অঞ্চলের সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, সড়কগুলোর যে অবস্থা তাতে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ না করলে সুফল মিলবেনা। এরই মধ্যে ২৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে আগের চেয়ে সড়কের অবস্থা এখন ভালো বলেও জানান তিনি।

খবরঃ জাগোনিউজ২৪

22 thoughts on “রাজশাহীর ৬০ শতাংশ সড়ক খারাপ

  1. শুধু খারাপ বললে ভূল হবে।বেহাল অবস্থা।বাংলাদেশ সরকারের উর্বর ভূমি কিন্তু অবহেলিত এলাকা।

  2. সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে চলছে কিনা, তাই রাস্তা-ঘাট ৯৫% না..মানে একটু খারাপ।

  3. নির্বাচন যদি সুষ্ঠ হয় তাহলে উন্নয়নের এ সড়ক ধরে যে ব্যাক্তি ভোট কেন্দ্রে যাবে ;তার সিলেই প্রতিফলন ঘটবে।

  4. পশ্চিম বাগমারার প্রায় প্রতিটি রাস্তায় ভারি যান চলাচলের অনুপযোগী।

Comments are closed.