রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে অসহনীয় লোডশেডিং

গোদাগাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ চারঘাট জয়পুরহাট তানোর দুর্গাপুর নওগাঁ নাটোর পবা পাবনা পুঠিয়া বগুড়া বাগমারা বাঘা মোহনপুর রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ সিরাজগঞ্জ

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ২ মে থেকে অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের প্রায় ৩০০ ডালকলের শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন মালিকেরা।

 পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এই এলাকায় মাইকিং করে গ্রাহকদের সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানানা হচ্ছে। ২ মে থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এ রকম অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। পাবনা ও সিরজগঞ্জের রায়গঞ্জেও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ভৈরবে একটি টাওয়ার ভেঙে পড়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। রমজানের শুরু থেকে বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে।

নর্থওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, রাজশাহী বিভাগে প্রতিদিন কমবেশি ৯০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। ভৈরবে টাওয়ার ভাঙার পর থেকে এই সমস্যা হয়েছে। এখন বড়পুকুরিয়া, বাঘাবাড়ী, কাটাখালী, ভেড়ামারা ও খুলনা থেকে যতটুকু উৎপাদন হচ্ছে, তা বণ্টন করে দেওয়া হচ্ছে। কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ থেকে, বাগমারা ও পুঠিয়ায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ থেকে এবং রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, পবা ও দুর্গাপুর উপজেলায় রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

পুঠিয়ার বানেশ্বরেজামান‘সর্টিং’ মিলের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ বস্তা ডাল ‘সর্টিং’ করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। এখন সেখানে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে শ্রমিকদের কাজ না করলেও পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে মিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতাদের ডাল সরবরাহ করতে পারছেন না।

এই বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে চারঘাটের কালুহাটি গ্রাম। এই গ্রামের মুরগির খামারি আবদুল মতিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেছে, এসেছে রাত একটার দিকে। পরদিন শুক্রবার একইভাবে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেছে, এসেছে রাত ১২টার দিকে।

পল্লী বিদ্যুতের চারঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকেন। তাঁদের চাহিদা প্রায় ২১ মেগাওয়াট। কিন্তু পাচ্ছেন ৩ থেকে ৬ মেগাওয়াট।

নর্থওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শহরে এখন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট। অপর দিকে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের ৪৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাচ্ছে ২০ থেকে ২৮ মেগাওয়াট।

রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।

রংপুর বিদ্যুৎ বিভাগেরনির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা বলেন, রংপুর বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ৫০০ থেকে ৫২০ মেগাওয়াট। এবার ভৈরবের টাওয়ার ভেঙে পড়ার কারণে এখন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার ৮-১০ জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামাঞ্চলে দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন কাটাতে হচ্ছে। রাতে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুতের দেখা মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও লোডশেডিংয়ে কাটাতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। অন্যদিকে শহরেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দিনে ও রাতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও এর বিপরীতে লোডশেডিং হচ্ছে এ থেকে দেড় ঘণ্টা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংও বেড়েছে।

গত রোববার উপজেলা ও পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকা এবং সোনাখাড়া ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাত দিন ধরে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪-১৬ ঘণ্টাই লোডশেডিং করা হচ্ছে। সোনাখাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, দিনে-রাতে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ যায় আর আসে।

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুঁইয়াগাঁতী আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬-৭ মেগাওয়াট। কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শামীম খান বলেন, অবস্থার পরিবর্তন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

খবরঃ প্রথম-আলো

6 thoughts on “রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে অসহনীয় লোডশেডিং

  1. গত ৯ বছর শাসন করছে সরকার। তার পরও লোডশেডিং এর গান শুনতে হবে। দেশে এতো এতো উন্নয়ন হচ্ছে। তার পরও এই গান শুনতে হচ্ছে। লোডশেডিং দূর করতে সরকারের আর কত বছর লাগবে?

  2. ঠিক বলছেন। আমাদের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নবাসীও গুরুতর এই সমস্যা থেকে রেহায় পায়নি। আমরা মুক্তি চাই এই লোডশেডিং থেকে। এক এ তো প্রচন্ড তাপপ্রবাহ চলছে তার উপর আবার অসহনীয় লোডশেডিং। আর সহ্য করার ক্ষমতা নেই আমাদের। কিছু একটা করেন (বিদ্যুৎ ও জালানি প্রতিমন্ত্রী)।

Comments are closed.