রাজশাহী ও বগুড়ায় আরও ৩০ আইসিইউ বেড

বগুড়া রাজশাহী

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি মাসে রাজশাহী বিভাগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আরও ৩০টি শয্যা দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১০টি ও বগুড়ায় ২০টি শয্যা দেওয়া হবে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে চান। এ সময় রাজশাহী বিভাগে আইসিইউ শয্যার সংকটের তথ্য তুলে ধরলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি চাহিদাপত্র দিতে বলেন। চাহিদাপত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১২১টি আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি করা হয়। রাজশাহী বিভাগের ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্যও আইসিইউ চাহিদাপত্র দেওয়া হয়।

চাহিদাপত্রে বগুড়ায় ২০টি এবং রামেক হাসপাতালে আরও ১০টি আইসিইউ শয্যার প্রয়োজনীতা তুলে ধরা হয়। এছাড়া রাজশাহীর ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আধুনিক সদর হাসপাতালে ১০টি, চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০টি, ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ৫টি, সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ১০টি, জেলার আরও ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে দুটি এবং জয়পুরহাট আধুনিক সদর হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ শয্যা চাওয়া হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, রাজশাহী বিভাগের সব জেলার জন্য ১২১টি আইসিইউ শয্যা চাওয়া হলেও কেবল রাজশাহী ও বগুড়ায় ৩০টি শয্যা দিতে সম্মত হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১০টি পাচ্ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। বাকি ২০টি শয্যা যাবে বগুড়ায়। বগুড়ার জিয়াউর রহমান হাসপাতালের জন্য ১০টি এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জন্য ৮টি আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, বর্তমানে রাজশাহী ও বগুড়ায় মোট ৫১টি আইসিইউ শয্যা আছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২০টি শয্যা আছে। আর বাকি ৩১টি শয্যা বগুড়ায়। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ১৩টি, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮টি এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি শয্যা আছে। নতুন বরাদ্দকৃত শয্যা বসানোর জন্য ইতোমধ্যেই হাসপাতালে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আমরা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জন্য আরও ২টি বেড বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই না থাকায় উপজেলায় আইসিইউ দেওয়া হচ্ছে না। রামেক হাসপাতল, শজিমেক হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট আছে। তাই এই তিন হাসপাতালেই নতুন আইসিইউ দেওয়া হচ্ছে। এখন কয়েকটি জেলার হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে সেখানেও আইসিইউ শয্যা দেওয়া হবে বলেও জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ