রাজশাহী চিনিকলে সাড়ে ৯ হাজার টন চিনি অবিক্রিত!

রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ

কোনোভাবেই লোকসান কাটছে না রাজশাহী চিনিকলের। চিনিকলে এবার অবিক্রিত চিনির পরিমাণ ৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনেরও বেশি। বিভিন্নভাবে প্রচার চালিয়েও চিনি বিক্রি করতে পারছে না এ চিনিকলটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিনি বস্তাবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে গুদামে।

বাজারে ভারতীয় চিনির দাম কম হওয়ায় চিনিকলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রাজশাহী চিনিকল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে চিনি বিক্রি শুরু করেছে। তবে বর্তমান বাজারের চেয়ে দাম বেশি হওয়ায় চিনি বিক্রির এ উদ্যোগও তারা সাড়া ফেলতে পারে নি নগরে।

রাজশাহী চিনিকলের একটি সূত্র জানান, অবিক্রিত চিনি বিক্রির উদ্দেশে নিজস্ব একটি পিকআপ ভ্যানে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ১ ও ২ কেজির আলাদা প্যাকেট করে তাঁরা বিভিন্ন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে চিনি বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছেন। কিন্তু মাইকে হাঁক-ডাক দিয়েও ক্রেতা ভেড়ানো যাচ্ছে না।

রাজশাহী চিনিকলের উন্নতমানের দেশিনচিনি প্রতি কেজির মূল্য ধরা হয়েছে ৪২ টাকা ও ২ কেজি প্যাকেটে মূল্য ধরা হয়েছে ৮২ টাকা। তবে বাজারে ভারতীয় চিনির দাম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দেশি চিনি কেনার জন্য ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা যায়নি।

রাজশাহী চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) আবুল কালাম সামসুদ্দীন জানান, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে নগরজুড়ে পিকআপ ভ্যানে করে চিনি বিক্রির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবুল কালাম সামসুদ্দীন বলেন, তাঁরা যখনই বাজারের অবস্থা দেখে চিনির দাম কমান তখন ব্যবসায়ীরাও চিনি বিক্রির কৌশল হিসেবে নিজেদের কাছে থাকা ভারতীয় চিনির দাম কমিয়ে দেন। এতে তাঁদের নির্ধারিত দামের চেয়ে আরও কমে আসে বাইরের চিনির দাম। ফলে সফলতা আসছে না।

তিনি বলেন, রাজশাহীর বাজারে বর্তমানে ৪২ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি হওয়া দেখে সরকারও ৪২ টাকা দরে চিনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাঁরা ৪২ টাকা চিনি বিক্রি শুরু করার পর বাজারে চিনির দাম নেমে আসে ৪০ টাকায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩৮ টাকায়ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নতুন পদ্ধতি অবলম্বনের চিন্তা চলছে বলেও জানান তিনি।