রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের ঘাস মারতে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিষ!

রাজশাহী

রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের ঘাস মারতে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা বিষ ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাস কাটার খরচ বাঁচাতে কর্তৃপক্ষ এই পদ্ধতি অবলম্বন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশের জন্যও এই বিষ হুমকিস্বরূপ। নগরের শালবাগান এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের যে অংশে খেলাধুলা হয়, শুধু সেই অংশের ঘাস কাটা হয়। আর চারপাশের ঘাস না কেটে বিষ দিয়ে মারা হয়। মারার পরে শুকনা ঘাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই স্টেডিয়ামে এখন স্কুল-মাদ্রাসার ৪৪তম গ্রীষ্মকালীন খেলার আসর চলছে। এরই মধ্যে মাঠের চারদিকে ঘাস মারার জন্য বিষ ছিটানো হয়েছে। এরপর ঘাসগুলো মরে গেছে। মরা ঘাস এখন পুড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা পোড়ানো সম্ভব হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও বিজ্ঞানী এম মনজুর হোসেন বলেন, সাধারণত ফল ও সবজিতে নির্ধারিত মাত্রায় বিষ ব্যবহার করা হয় এবং ব্যবহারের ২১ দিনের মধ্যে আহরণ করতে নিষেধ করা হয়। আর মাঠে খেলা চলছে, পাশাপাশি এই বিষ ব্যবহার অবশ্যই খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

মাঠের কিউরেটর সাজ্জাদ হোসেন নিজে বিষ ছিটান। এ বিষ কোথায় পাওয়া যায়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা ও তানোর উপজেলায় এই বিষ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ঘাস মারার বিষ ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করা হয়। এ জন্য দোকানি বিষের বোতলের গায়ের ট্রেডমার্ক ছিঁড়ে খালি বোতল বিক্রি করেন। বিষের কোনো নাম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোতলের গায়ে লেখা থাকে ‘অ্যামাডন’। ৫০০ এমএলের একটি বোতল ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। চার বোতল ওষুধ হলেই এই স্টেডিয়ামের ঘাস মারা যায়।

ঘাস না কেটে কেন বিষ দিয়ে মারছেন—জানতে চাইলে সাজ্জাদ বলেন, মাঠের চারদিকে যে পরিমাণ ঘাস হয়, এই ঘাস কাটতে অনেক টাকা লাগবে। তা ছাড়া ঘাসের মধ্যে সাপ বা অন্য পোকামাকড়ও থাকতে পারে। বিষ দিলে সব মারা যায়। এভাবে বিষ দিয়ে ঘাস মারার কোনো অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিটিই তো টাকা দেয়। অনুমোদন না থাকলে তারা কি বিষ কেনার টাকা দেবে?’

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক জোহা এম এম হোসেন বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করা এই বিষ অনুমোদিত নয়। এগুলো মান নিয়ন্ত্রিত নয়। অত্যন্ত কড়া। এই বিষ মাটি থেকে সহজে নির্মূল হয় না। এর স্পর্শে গেলে অবশ্যই মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। তা ছাড়া এই বিষ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। কোনোমতেই স্টেডিয়ামের মতো জায়গার ঘাস মারতে এই বিষ ব্যবহার করা উচিত নয়।

মাঠে বিষ ছিটানো প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রফিউস শামস প্যাডি বলেন, এটা দিতে হয়। পোকামাকড় মারতে এই বিষ লাগে। পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই তো স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারপরও কি সেগুলো আমরা বাদ দিয়ে চলি?’

মাঠ সংস্কারের টাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাদ্দ দেয় জানিয়ে রফিউস শামস বলেন, কখনো ৫০-৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ মেলে। আবার কখনো এক লাখ টাকা লাগে পুরো মাঠ সংস্কারের জন্য। আর মাঠের ভেতরের অংশের ঘাস কাটতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। পুরো মাঠের ঘাস কাটতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

কৃতজ্ঞতাঃ প্রথম আলো