রাজশাহী নগরীতে ভাতা প্রত্যাশীদের ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘প্রত্যাশা’

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীতে প্রায় সাড়ে তিন’শ ব্যক্তিকে বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘প্রত্যাশা’ নামে একটি বেসরকারি সংস’ার এক কর্মী তাদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীপক কুমার দাস (৩২) নামে ওই ব্যক্তিকে এ অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তার নামে থানায় একটি প্রতারণার মামলাও হয়েছে।

দীপক রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ কারিগরপাড়া এলাকার অধীর কুমার দাসের ছেলে। টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত সোমবার রাতে নগরীর দাসপুকুর এলাকায় ভুক্তভোগি কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধরে মারপিট শুর্ব করেন। পরে তাকে স’ানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে তাকে সেখান থেকে রাজপাড়া থানা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তার বির্বদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন স্মৃতি বেগম (৩০) নামে এক নারী। পরে বিকেলেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বাদী স্মৃতি বেগম নগরীর দাসপুকুর এলাকার শামিম হোসেনের স্ত্রী। এই স্মৃতি বেগম ও একই এলাকার জামাল হোসেনের স্ত্রী শ্যামলী বেগমের (৪০) মাধ্যমে দীপক ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলেন।

স্মৃতি বেগম তার মামলার এজাহারে বলেছেন, দীপক কুমার দাস নিজেকে ‘প্রত্যাশা’ এনজিও’র কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ও শ্যামলীকেও কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের দু’জনের কাজ ছিল এলাকার বিভিন্ন ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা পেতে এ টাকা ‘অফিস খরচ’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলেও তাদের জানানো হয়।

দীপকের কথা অনুযায়ী এই দুই নারী তাকে গত দেড় বছরে ভাতা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা তুলে দেন। এর মধ্যে শিৰা ভাতার জন্য ২০০ জনের কাছ থেকে আদায় করা হয় মাথাপিঁছু আড়াই হাজার টাকা। শিশু ভাতার জন্য ৮০ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু তিন হাজার টাকা। কিশোরী ভাতার জন্য ৮০ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু দেড় হাজার টাকা। ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে ৩১ জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু সাত হাজার টাকা। গুডলোনের নামে সাত জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু সাড়ে তিন হাজার টাকা। এছাড়া বয়স্ক ভাতার জন্য ১০ জনের কাছ থেকে মাথাপিঁছু এক হাজার টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য চার জনের কাছ থেকে নেয়া হয় মাথাপিঁছু ৪০০ টাকা।
স্মৃতি বেগম বলেন, প্রত্যাশার নামে দীপক তাদের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অথচ এলাকায় এ নামে কোনো এনজিও’র অফিস নেই। শুধু মুখের কথায় তারা দু’জন তাকে টাকা তুলে দিতেন। দীপকই তাদের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি তিনি ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। টাকা আদায়ের জন্য তাদের প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তাও তিনি দেননি। এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকেই কোনো ভাতা দিতে না পারায় এলাকার লোকজন তার ওপর ৰিপ্ত হয়ে ওঠেন। সোমবার রাতে তিনি এলাকায় গেলে তাকে স’ানীয়রা আটকান। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপরই তিনি থানায় এ মামলা করেন।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উলৱাহ জানান, দীপককে থানায় নেয়ার পর প্রতারণার শিকার বেশকিছু নারী-পুর্বষ থানায় ভিড় জমান। পরে মামলা হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে থানায় আটক অবস’ায় দীপক কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, তিনি টাকা নিয়েছেন, এটা সত্য। তবে মামলার এজাহারে যে পরিমাণ টাকার কথা বলা হচ্ছে-সে পরিমাণ নয়। তিনি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতার নামে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক র্ববিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রত্যাশা নামে রাজশাহীতে একটি এনজিও আছে। তবে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের ভাতা পেতে কোনো টাকাও লাগে না। আর আমি রাজশাহীতে যোগ দেয়ার পর এমন কোনো অভিযোগও পাইনি। তবে প্রতারকরা এ ধরনের কাজ করতে পারে।’

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ