রাজশাহী নগরীর সিংহভাগ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য

রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর সড়কগুলোর বেহাল দশা। নগরীর বেশিরভাগ রাস্তাই এখন চলাচলের অযোগ্য। বর্ষা শেষে সড়কগুলো সংস্কার করা হবে বলে কথা দিয়েছিল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। অথচ আগামী নভেম্বরের আগে সড়কগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে রাসিক কর্তৃপৰ। ইতোপূর্বে বহুবার ভাঙা রাস্তা সংস্কারের কথা দিয়েও কথা রাখেনি তারা। এর ফলে আরো তিন মাস দুর্ভোগের মধ্যেই ভাঙা-চুরা সড়কে চলাচল করতে হবে নগরবাসীকে।

নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে তালাইমারী সড়কের এখন কর্বণ দশা। সড়কটির হাজারো স্থান ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আর তালাইমারী জাহাঙ্গীর সরণী মোড়ের সড়কগুলো ভেঙে চুরে একাকার। ঈদকে সামনে রেখে যখন ঘরমূখো মানুষের যাতায়াত সহজ ও সচল রাখতে রোড ডিভিশনের প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, তখনও নগরীর ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে হাবুডুবু খেলেও সড়কগুলো সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই রাসিকের।

ইতোমধ্যে সড়কগুলো আরো ভেঙে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঢাকা বাস টার্মিনাল থেকে ভদ্রা মোড় ও ভদ্রা মোড় হতে তালাইমারী পর্যন্ত সড়কের অনেক স্থানে পিচ উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি ভাঙা থাকার কারণে কোন যানবাহন ঠিকমত চালানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাসগুলো শৱথ গতিতে চালাতে হচ্ছে। এতে যেমন বেশি সময় লাগছে। তেমনি সময় কভার করতে গাড়ির গতি বাড়াতে গিয়েই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙকা।

এই বাস টার্মিনাল-তালাইমারী সড়কটি রাজশাহীর একটি গুর্বত্বপূর্ণ সড়ক। রাজশাহীর প্রবেশ দ্বার এই সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের আন্তঃনগর বাস ও ট্রাক চলাচল করে। অসংখ্য যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা টনকে টন শাক-সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করে থাকেন।

প্রায় মাস খানেক আগেই অতিবৃষ্টিতে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার অধিকাংশ সড়ক ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লে খোয়া দিয়ে যেনতেন ভাবে মেরামত করা হয়। বৃষ্টি থেমে গেলেও এখনো সড়কের বেহাল অবস্থা দূর হয়নি। সড়কটির অনেক স্থান ভেঙে-চুরে একাকার অবস্থা। সড়কের ইটের ফাঁকে ফাঁকে পানি জমে অনেক স্থান দেবে গেছে। আবার অনেক স্থানে মাটি সরে গিয়ে ইটগুলো উপরে হা করে চেয়ে আছে। এর ফলে সড়কের গর্তগুলো বড় হয়েছে। ঐ সড়ক দিয়ে বাস চলতে গিয়ে বাসের ঝাঁ্‌কুনিতে যাত্রীদের নাস্তানাবুদ অবস্থা।

বাঘার এক বাস যাত্রী নজর্বল ইসলাম হাস্যচ্ছলে বললেন, এটা সড়কতো নয় ব্যায়ামাগার। এ রাস্তায় চলতে গেলে হজম শক্তি বাড়বে, শরীরে ব্যথা থাকলে মনে হয় কমে যাবে কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটতে পারে অন্যদের ৰেত্রে। এতে কারো নাড়ি ভুড়ি উলট পালট হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। আবার অতিরিক্ত ঝাঁকুনিতে কোন প্রসূতির সন্তান প্রসবও হতে পারে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক কামাল হোসেন রবি বলেন, ভদ্রার মোড় থেকে শিরোইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি নগরীর খুবই গুর্বত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অবহেলার কারণে সড়কটির এ দুরবস্থা। আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থা হত না। বৃষ্টির কারণে সড়কটির অবস্থা এমনই কর্বণ হয়ে পড়েছে যে বর্ষাকালীন সময়ে রাজশাহী বাস মালিক সমিতি নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামতে নামতে বাধ্য হয়েছিল।

এর সাথে সাথে ভদ্রা থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল, নগরীর সদর হাসপাতাল থেকে বাটার মোড়, মালোপাড়া থেকে মহিলা কলেজ, মাস্টারপাড়া পাইকারি কাঁচা বাজারের মন্দির হতে পদ্মা নদীর তীর, সাহেব বাজার বড় মসজিদ হতে পর্যন্ত রাস্তাটি ভেঙে চুরে একাকার। পিচ উঠে যাওয়ায় ঐ সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নগরীর ভাঙা সড়কগুলো কবে নাগাদ মেরামত শুর্ব করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে রাজশাহী বাস টার্মিনাল-তালাইমারী সড়কসহ নগরীর ভাঙা সড়কগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

6 thoughts on “রাজশাহী নগরীর সিংহভাগ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য

  1. নগরে প্রধান প্রোকৌশলী নামের কোনো লোক আছে কিনা সন্দেহ।।
    এরা কেমন ইঞ্জিনিয়ার যে রাস্তার বিল ছাড় করায়ে দেয় যেই রাস্তা বানানোর এক মাসের মধ্যেই ভাঙ্গে যায়, জোড়া তালি মারার ১০-১৫ দিনেই তালি খুলে যায়য়। ???

    এরা নিশ্চয় নকল করে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার।।

Comments are closed.