রাজশাহী নগরী আসছে সিসি ক্যামেরার আওতায়

রাজশাহী

সন্ত্রাস ও নাশকতারোধে ২০১৫ সালে রাজশাহী মহানগরীর ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পুলিশ। তখন নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানোও হয়েছিল। সেই শেষ। পরবর্তিতে ওই উদ্যোগ থেমে যায়।

তবে সম্প্রতি পরপর কয়েকটি খুন ও ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের আবার টনক নড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে এ উদ্যোগ আবারও নেয়া হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল নগরীতে আইন-শৃঙ্খলা মিটিং শেষে পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক রাজশাহীতে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো নগরীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে আবার ভাবছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নগরীকে নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশন, চেম্বার অব কমার্সেও প্রতিনিধিরাও সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা জানিয়েছেন।

এর আগে, ২০১৫ সালে এ উদ্যোগ নিয়ে নগরীতে যে পাঁচটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তেমন কাজেই আসছে না। এ কারণে অপরাধ শনাক্ত করতে পুলিশকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে।

২০১৫ সালে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার, সোনাদিঘীর মোড়, কামারুজ্জামান চত্বর, শালবাগান ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় পাঁচটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, তালাইমারি, নিউমার্কেট, আরডিএ মার্কেট, কোর্ট বাজার, লোকনাথ স্কুল মার্কেট, রানীবাজার, বাটার মোড়, রেলগেট, শিরোইল পুরাতন বাস টার্মিনাল ও নওদাপাড়া আমচত্বরসহ নগরীর ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নগরীর লোকনাথ স্কুল মার্কেটের সামনে জামায়াত-বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের মিছিল থেকে পুলিশ ভ্যানে পর পর দুটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ রায় মারা যায়।

এ ছাড়া নগরীর সাহেববাজার এলাকায় ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পেটানো হয়। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন শিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া। একটি অস্ত্র মামলায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ২৬ অক্টোবর ইয়াহিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

এসব আরো অনেক ঘটনায় ২০১৫ সালে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলো পুলিশ।

এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র ও রাজপাড়া জোনের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, ওই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ৪-৫টি ট্রাফিক পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। এরপর ওই প্রকল্পের কাজ আর সামনে এগিয়ে যায়নি।

তবে সম্প্রতি, ২২ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে শালবাগান এলাকায় তার বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে কুপিয়ে হত্যা করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে নগরীর গণকপাড়ায় ১০-১২টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এম রায় নামে একটি জুয়েলার্সের দোকান থেকে প্রায় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায় একদল ডাকাত। এরপরে পুলিশ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আবারো সিসি ক্যামেরা বসানোর।

খবরঃ বাংলামেইল২৪