রাজশাহী নগরের চিত্র অটোর জন্য পা ফেলা দায়

রাজশাহী

রাজশাহী নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছর ধরে নতুন অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তারপরও নগরের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে হরদম অটোরিকশা বিক্রি চলছেই।
অভিযোগ রয়েছে, নম্বর জালিয়াতি করে এখন রাস্তায় নামছে নতুন অটো। এ ব্যাপারে খোদ নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, একটি নম্বরে ১০টি অটোরিকশা চলছে।

নগরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) ও দুই আসনবিশিষ্ট ব্যাটারিচালিত রিকশা মাত্রাতিরিক্ত নামানোর কারণে নৈরাজ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজারে চার লেনের রাস্তার ওপর চার সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে অটোরিকশা। মানুষের রাস্তা পারাপার নিয়ে ভোগান্তির অন্ত নেই। নগরের জিরো পয়েন্টে যাত্রী তোলার জন্য চার সারিতে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অন্য যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। এরই মধ্যে আবার সিটি বাইক নামে নতুন ধরনের অটোরিকশা নামতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে নগরে নামানোর জন্য ২১ হাজার সিটি বাইক প্রস্তুত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে অটোরিকশা বিক্রির পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি অটোরিকশা বিক্রি হচ্ছে। এসব গাড়ির বেশির ভাগই রাজশাহী নগরে নামছে। কিছু নগরের বাইরের রাস্তায় যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স দেওয়া না হলেও এরা লাইসেন্সের নম্বর জোগাড় করে ফেলছে। একটি চক্র এই লাইসেন্স জালিয়াতির ব্যবসায় নেমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি চঞ্চল সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ভেতরেই অটোরিকশার নম্বর জালিয়াতি চক্র রয়েছে। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পরও যখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তখন তিনি এই সংগঠন থেকে সরে এসেছেন। কাগজপত্রে তিনি সভাপতি থাকলেও এখন আর কার্যালয়ে বসছেন না। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ১ হাজার ৭০০ অটোরিকশার জাল নম্বরপত্রের প্রমাণ রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম বলেন, তাঁরা এক বছর ধরে অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এর আগে তাঁরা ১০ হাজার অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়েছেন। আগামী ৩০ জুন তাঁদের নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার অটো নবায়ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে পরিমাণ অটো নবায়ন হবে, সেগুলোই নগরে চলবে। বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওইগুলোর ভেতর থেকে এক দিন জোড়, আরেক দিন বিজোড় নম্বরওয়ালা গাড়ি চলবে। আগামী জুলাইয়ের পর থেকে তাঁরা এই পদ্ধতি চালু করবেন।

লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পরেও বিক্রয়কেন্দ্রগুলো অটোরিকশা বিক্রি করছে। এগুলো কোথায় যাচ্ছে—জানতে চাইলে মেয়ের বলেন, নম্বর জালিয়াতি করে এগুলো নগরেই নামানো হচ্ছে। একই নম্বরে ১০টা পর্যন্ত গাড়ি চলছে। নম্বর জালিয়াতি চক্র নাকি সিটি করপোরেশনেই রয়েছে—এমন অভিযোগের ব্যাপারে মেয়র বলেন, তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তাঁদের কাছে প্রমাণ আছে, শ্রমিক সংগঠনের নেতারাই এই কাজগুলো করছেন।

খবরঃ প্রথম আলো

3 thoughts on “রাজশাহী নগরের চিত্র অটোর জন্য পা ফেলা দায়

Comments are closed.