রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাওদার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, ভিসেরা সংগ্রহ

রাজশাহী

মডেল ও বাংলাদেশের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রী মালদ্বীপের মেয়ে রাওদা আতিফের (২০) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে মৃত্যুর কারণ জানতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের পর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি চিকিৎসকরা।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ময়নাতদন্তে থাকা একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, আপাতত আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোনো আলামত পাননি তারা। এরপরও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে রাওদার মরদেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে ভিসেরা প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। তখন সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিবেদনও দেওয়া হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতেখায়ের আলম বলেন, ময়নাতদন্তের পর রাওদার মরদেহ বর্তমানে রামেক হাসপাতালের মর্গেই রাখা আছে। এখনও মরদেহ নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তার বাবা-মা কোনো সিদ্ধান্তের কথা পুলিশকে জানায়নি। তারা সময় চেয়েছেন।

এর আগে একইদিন দুপুরে রাওদার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মনসুর রহমানকে প্রধান করে টিম গঠন করা হয়। টিমে অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এনামুল হক ও ডা. এমদাদুর রহমান।

ময়নাতদন্তের আগে বেলা সাড়ে ১১টার দেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে মেয়ের মরদেহ দেখতে যান তারা বাবা-মা। সেখানে মেয়ে রাওদার মরদেহে দেখার পর রাওদার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ পুলিশকে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ সময় মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানেরও দাবি করেন তিনি।

রাওদার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ, মা আমিনাথ মুহারমিমাথের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশাদ শান সাকির ও কমনওয়েলথের সেকেন্ড সেক্রেটারি ইসমাইল মুফিদও রয়েছেন।

এর আগে রাওদার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ রিয়াদ জানান, কলেজের উপাধক্ষ ডা. আব্দুল মুকিত সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া রাওদার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) খোঁজ-খবর নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশাদ শান সাকির। বিকেল চারটার দিকে তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি রাওদার সহপাঠী, শিক্ষক ও মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

বুধবার (২৯ মার্চ) রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রাওদার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ১৩তম ব্যাচের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রাওদা। বিদেশি কোটায় ভর্তির পর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি মহিলা হোস্টেলের দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষে ওঠেছিলেন রাওদা। ওই ব্লকে আরও ১৪ জন বিদেশি ছাত্রী থাকেন।

এক সময় রাওদা প্রখ্যাত ভোগ ম্যাগাজিনের মডেল হয়েছিলেন শখের বসে। শিক্ষার টানে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে এসে ভর্তি হয়েছিলেন এই মেডিকেল কলেজে। এরপর নিহত হলেন সদ্য টিন অতিক্রান্ত এই মালদ্বীপীয় মেয়েটি। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে সার্টিফিকেট কোর্সও করছিলেন রাওদা।

খবরঃ বাংলানিউজ