রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ

রাজশাহী

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রফেসরের পদ শূন্য, টেকনিশিয়ানের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে নতুন ইটিটি মেশিনটি বন্ধ ঘরে পড়ে আছে, নতুন ক্যাথল্যাব, ইকো মেশিন দরকার। এছাড়াও মেডিকেল অফিসার কমপক্ষে ৮ জন এবং ৮ থেকে ১০জন সহকারী রেজিষ্ট্রার প্রয়োজন। বিগত ১৩ বছর ধরে এ সংকটের কারণে চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের হিমশীম খেতে হয়, অপরদিকে রোগীদের ভোগানিতরও শেষ নেই। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

রামেক হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে কার্ডিওলজি বিভাগ। সেখানে হৃদরোগে আক্রানত মুমূর্ষু রোগীরা আসেন। উক্ত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ৪০টি কিন্তু প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এ ধরনের একটি বিভাগে রোগীর চাপ থাকা সত্ত্বেও কোন প্রফেসর নেই। এছাড়াও ওয়ার্ডে আগত সকল রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত হার্টের আভ্যনতরীণ বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যেমন, রোগীর হার্টের ব্লক পরীক্ষার জন্য ক্যাথল্যাব (এনজিইওগ্রাম) করা হয়। কিন্তু ক্যাথল্যাব মেশিনটি বর্তমানে বয়সের ভারে কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে। নতুন ক্যাথল্যাব মেশিন প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। এদিকে ইকো মেশিন দিয়ে রোগীর হার্টের ভাল্ব সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, পর্দায় কোন ছিদ্র আছে কিনা এসকল পরীক্ষা করা হয়। সেটিও বর্তমানে পুরনো হয়ে গেছে। ইটিটি মেশিন দিয়ে এঙারসাইজের মাধ্যমে হার্টের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু ওয়ার্ডটিতে দীর্ঘদিন আগে ইটিটি মেশিন আনা হলেও টেকনিশিয়ানের নিয়োগ না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ডটিতে লোকবল সংকট দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তিনজন সহকারী প্রফেসর, দুইজন জুনিয়র কনসাল্টটেন্ট ও একজন রেজিষ্ট্রার দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। যেখানে মানুষের জীবন-মরণ নির্ভর করে সেখানে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবহেলা কতটুকু যুক্তিসংগত সেটা ভেবে দেখার বিষয়।

নাম না বলার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষের চিকিৎসা সেবার এক তৃতীয়াংশ পূরণ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বাকিটা বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মাধ্যমে পূরণ হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই রামেক হাসপাতাল নানাভাবে অবহেলিত। সমপ্রতি রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য জননেতা ফজলে হোসেন বাদশার সহযোগিতায় বেশ কিছু উন্নত মেশিন হাসপাতালে আনা হয়। সেগুলোও সঠিকভাবে পরিচালনার অভাবে মাঝে মধ্যে মেশিনগুলোর ত্রুটি দেখা দেয়।

কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ রইস উদ্দিন মন্ডল বলেন, বিগত ১৩ বছর ধরে তিনি উক্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অবিলম্বে একটি ক্যাথল্যাব মেশিন, ইকো মেশিন এবং একজন টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন। এছাড়াও রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থে ওয়ার্ডটিতে লোকবল বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ

2 thoughts on “রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ

  1. বাদশা ভাই, যত দ্রুত সম্ভব নাসিম ভাইকে রামেক পরিদর্শনে আনুন। আপনার ওপর আস্হা আছে ॥

  2. Liton vai nasim vai k janan somosar kotha bolun vai ar osadu lokgulor babostha nin vai manusar jibon bachan vai apnae rajsahair gorbo….Liton vai

Comments are closed.