রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীদের খেজুর-শরবত দিয়ে আপ্যায়ন

রাজশাহী

ঈদে ট্রেনের টিকিট? সে তো সোনার হরিণ। একটি টিকিটের জন্য যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। পরের দিন সকালের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয় আগের দিন রাতে!

গেলো কয়েক বছর থেকে টিকিটপ্রত্যাশীদের উপচেপড়া সেই লাইনের দৃশ্য তাই সবার চোখে যেন সয়ে গেছে। তবে নতুন খবর হচ্ছে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গত চার দিনে ঈদের পর কর্মস্থলে পৌঁছার জন্য ফিরতি টিকিট করতে এসে আপ্যায়িত হয়েছেন লাইনে দাঁড়ানো মানুষ।

খেজুর ও শরবত দিয়ে তাদের নিদারুণ কষ্টে পাশে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিকম প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার। ব্যক্তি উদ্যোগেই কাজটি করেছেন এ কর্মকর্তা।

জানতে চাইলে তিনি শুক্রবার (৯ আগস্ট) বলেন, অনেকে টিকিটের জন্য সারারাত রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করেন। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় তারা তৃষ্ণায় ভোগেন। সেই কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে এই খেজুর ও শরবতের ব্যবস্থা।

তৃষ্ণার্ত মানুষকে এই সামান্য আপ্যায়ন করতে পেরে তিনি খুশি। এর মধ্যে দিয়ে অন্তত দুর্ভোগের কাতারে থাকা এই মানুষগুলোর কাছে সহমর্মিতা প্রকাশ করা গেছে বলেও মনে করেন তিনি।

অসীম তালুকদার বলেন, বিশুদ্ধ পানি, লেবু ও ইসুবগুলের ভুসি দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বানানো শরবত তাদের পান করতে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে খেজুর। গত ৫ আগস্ট (সোমবার) প্রথম দিন হওয়ায় অল্প মানুষ ছিল।

এর পরদিন ৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) ৩শ, ৭ আগস্ট (বুধবার) থেকে ৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ও আজ শেষ দিন শুক্রবার (৯ আগস্ট) পর্যায়ক্রমে ৫শ ফিরতি টিকিটপ্রত্যাশীকে খেজুর ও শরবত দিয়ে আপ্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। ক’দিন থেকে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে এ কাজে সহায়তা করেছেন।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আসা শফিকুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি হোক আর ব্যক্তি উদ্যোগেই হোক, পদক্ষেপটি প্রশংসনীয়। এর মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মনে সামান্য হলেও স্বস্তি এসেছে। আর যা-ই হোক টিকিট নিয়ে রেলওয়ের কাউন্টারের থাকা টিকিট মাস্টার ও টিকিটপ্রত্যাশীদের মধ্যে কোনো বচসা হয়নি। তাদের আন্তরিকতা দেখে সবাই ঠাণ্ডা মাথায় দীর্ঘক্ষণ টিকিটের জন্য অপেক্ষা করেছেন।

ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে এর আগে গত ৫ আগস্ট থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ফিরতি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। সকাল সোয়া ৯টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রির কথা থাকলেও বেলা ১১টার মধ্যেই ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। আর বাকি ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে ও ‘রেলসেবা’ অ্যাপস দিয়ে কাটতে পারেন সব রেলযাত্রীরা।

এর মধ্যে ৫ আগস্ট ১৪ আগস্টের, ৬ আগস্ট ১৫ আগস্টের, ৭ আগস্ট ১৬ আগস্টের, ৮ আগস্ট ১৭ আগস্টের এবং ৯ আগস্ট ১৮ আগস্টের টিকিট দেওয়া হয়। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের মোট ৬টি কাউন্টারের মাধ্যমে ঈদের ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনপত্র দিয়ে সবাই টিকিট কাটতে পারেন। এবার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আগাম ফিরতি টিকিট নিয়ে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর