রাজশাহী রেশম কারখানার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু

রাজশাহী

অবশেষে রাজশাহী রেশম কারখানার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাঁচটি পাওয়ার লুমের মাধ্যমে কারখানাটির উৎপাদন শুরু করা হবে।

শুক্রবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ ভাইস-চেয়ারম্যান ফজলে হোসেন বাদশা কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধন করেন।

রাজশাহী রেশম কারখানা চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহী রেশম কারখানা চালু হওয়া তার এবং রাজশাহীবাসীর স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই স্বপ্ন আজ সফল হওয়ার পথে। তিনি রেশম কারখানার পাঁচটি পাওয়ার লুমের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি রেশম শিল্পকে রেশম কারখানার শিল্প না ভেবে এটিকে সামাজিক শিল্প হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বাদশা বলেন, প্রথমত ট্রায়াল বেসিসে পাঁচটি লুমের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলো। শিগগিরই এর পরিধি ক্রমান্বয়ে আরও বাড়ানো হবে।‘এ সময় তিনি ২০০২ সালে রেশম কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে রাজশাহী তথা বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি বর্তমানে কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম বলেন, আমাদের গর্বের এবং আত্মসম্মানের প্রতীক হলো এই রেশম কারখানা। তৎকালীন সময়ে কারখানার লোকসান থাকলেও তা চালু রাখা যু্ক্তিযু্ক্ত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।

‘এ সময় তিনি রেশম শিল্পের উন্নয়নের জন্য চীন ও ভারত থেকে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে রেশম শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহীন আক্তার রেণী ও অধ্যাপিকা তসলিমা খাতুন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেশম কারখানার প্রধান উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন সিবিএ সভাপতি মো. আবু সেলিম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. সাবরিনা নাজ, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও পরিকল্পনা) ও সদস্য (উৎপাদন ও বাজরজাতকরণ) সৈয়দা জেবিননিছা সুলতানা, সদস্য (সম্প্রসারণ ও প্রেষনা) এম এ মান্নান, রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী বোর্ডের সচিব জায়েদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পাওয়ার লুমগুলো চালুর সব পর্যায় অর্থাৎ ধাপ পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত বছরের ২২ নভেম্বর বন্ধ থাকা রাজশাহী রেশম কারখানার একটি পাওয়ার লুম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা পুরোপুরিভাবে কারখানাটি চালু করা হবে বলে ঘোষণা দেন। কারখানার চারটি লুম প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ছয় লাখ টাকা।

এ অঞ্চলেই এক সময় রেশম শিল্পকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। তুঁত চাষ থেকে পলু পোকা লালন-পালন, গুটি পোকা থেকে সুতা উৎপাদন, তারপর সেই সুতাকে মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে থানকাপড় তৈরি। সেই থান কাপড় ডাইং ও পেইন্টিং করে নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হতো। এজন্য রাজশাহীতে সেই ১৯৬১ সালে তৈরি করা হয় রাজশাহী রেশম কারখানা। যদিও লোকসানে ২০০২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ২৪