রাজশাহী সিটি করপোরেশন চলতি বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়নি

রাজশাহী

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চলতি অর্থবছরে কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম এ ঘটনা ঘটল। সাধারণ নাগরিকদের ধারণা, দলীয় মেয়র নির্বাচিত না হওয়ায় রাজশাহীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় থেকে সরকারদলীয় একজন কাউন্সিলরকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র করা হয়েছে। তারপরই বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষ আদালতে গেছে। সম্প্রতি এই নিয়োগকে আদালত থেকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়েছে, যদিও সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী নগরের চেহারা অনেকটা বদলে যায়। রাস্তাগুলো বেশ চওড়া হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে নতুন বিনোদনকেন্দ্র। ‘জিরো সয়েল প্রকল্পের’ আওতায় নগর সবুজায়নের কাজ হয়েছে। কিন্তু এবার তিনটি প্রকল্প দাখিল করা হয়েছিল, যার একটিও মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেনি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের অনুমোদনের জন্য করপোরেশন এলাকায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছিল। আইন লঙ্ঘন করে একের পর এক জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। শুধু আইন দিয়ে কর্তৃপক্ষ পুকুর ভরাট ঠেকাতে পারছে না। এতে রাজশাহী চরম ভাবাপন্ন এলাকায় পরিণত হচ্ছে। কোনো কোনো মহল্লায় আগুন লাগলে নেভানোর কোনো পানির উৎস পর্যন্ত নেই। এই অবস্থায় সর্বনিম্ন ২ একর থেকে প্রায় ১৩ একর আয়তনের ১৭টি জলাশয় অধিগ্রহণ করে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। মোট ৬৫ দশমিক শূন্য ৫২২ একর আয়তনের এই জলাশয় সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯২ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে দুবার জমা দিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
অন্য একটি প্রকল্প হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ‘অ্যাসফল্ট কার্পেটিং’ দ্বারা উন্নয়ন করা। আগের তৈরি সড়কগুলোর কার্পেটিং দিন দিন উঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একেবারে নষ্ট হওয়ার আগে সড়কগুলো ‘অ্যাসফল্ট কার্পেটিং’ করতে পারলে আবার অনেক দিন চলত। ১৭৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পও ফেরত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নগরের সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছিল। তাও অনুমোদন করা হয়নি। এই অবস্থায় পদ্মার ধারে ইকো-পার্ক নির্মাণ ও নগরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ‘ডিপিপি’ প্রকল্প আর জমাই দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সাবেক প্যানেল মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু বলেন, একটি প্রকল্প জমা দেওয়ার পর একনেক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক তদবির করতে হয়। এ জন্য শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন পড়ে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই প্রকল্পগুলো অনুমোদন হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সংস্কৃতিকর্মী পার্থ ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন যখন রাজশাহীর মেয়র ছিলেন, তখন আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের গতিতে রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে। এখন লোকাল ট্রেনের গতিতে চলছে উন্নয়ন। একই সময়ে অন্যান্য নগর উন্নয়নের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা রাজশাহীবাসীর জন্য হতাশা ও দুর্ভাগ্যের। এই অবস্থায় সরকারি দলের সব নেতা, সাংসদ ও মন্ত্রীর একযোগে রাজশাহীর জন্য কাজ করা দরকার।’
যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর মানুষ চাইতে জানি না, এ জন্যই এই অবস্থা হয়েছে। তারপরও এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, স্থানীয় সাংসদ ফজলে হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহযোগিতায় ৪০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ পাওয়া গেছে। একটি নভোথিয়েটারও হতে যাচ্ছে।’

প্রথম আলো-http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/836206/%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BF

5 thoughts on “রাজশাহী সিটি করপোরেশন চলতি বছরে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়নি

Comments are closed.