রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি ২০টি আসনের জন্য ছাত্রলীগের ভাঙচুর

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী

রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মারধর করে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত সোম ও মঙ্গলবার এসব ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব ঘটনা পুলিশের সামনে ঘটলেও পুলিশ তাতে বাধা দেয়নি। উল্টো ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরে ২০টি আসন নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের আপসরফা হয়েছে।
ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও কলেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কলেজের হলরুমে ভর্তির কার্যক্রম চলছিল। এ সময় সেখানে ভর্তির জন্য কিছু শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছিল। ছাত্রলীগের রাজশাহী সিটি কলেজের সভাপতি শামসুল আরেফিন ওরফে রবিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রত্যয়, রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইমুল হাসান ও সিটি কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী শাহরুখ আলম গিয়ে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীদের মারধর করে কলেজ থেকে বের করে দেন। তাঁরা কলেজ কার্যালয়ের দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। অধ্যক্ষের কক্ষের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ঢিল ছোড়েন। একজন শিক্ষককে চেয়ার তুলে মারতে যান। ছাত্রলীগের ভাঙচুর চালানোর সময় কর্তব্যরত পুলিশের এক সদস্য হাতে আঘাত পান।
ঘটনার পর সেখানে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া অঞ্চলের সহকারী কমিশনার গোলাম সাকলায়েন, বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান, পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম বাদশা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসায় বসেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষক বলেন, ছাত্রলীগের দাবি ছিল ২০টি আসন। এসব আসনে তাদের নিজেদের শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে চাইচ্ছিল তারা। বাধ্য হয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবারও তারা ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কলেজের ২১৮ নম্বর কক্ষে ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ এক ছাত্রকে লাথি ও কিলঘুষি মেরে বের করে দেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।
ওই শিক্ষক বলেন, তাঁরা ২০টি আসন বরাদ্দ নিলেও অপেক্ষমাণ তালিকার ছাত্রদের ভর্তিতে বাধা দিতে না পারলে পেছনের তালিকা থেকে ছাত্র ধরে এনে ভর্তি করাতে পারছেন না। এ জন্য ছাত্রদের ভর্তিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শিক্ষকদের আশঙ্কা, আজ বৃহস্পতিবার একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি ঘোষ বলেন, যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের দুবার নিষেধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁরা আর এ ধরনের ঘটনা ঘটাবেন না।

খবরঃ প্রথম-আলো

3 thoughts on “রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি ২০টি আসনের জন্য ছাত্রলীগের ভাঙচুর

Comments are closed.