রাবিতেও সান্ধ্যকোর্স বন্ধের জোর দাবি

রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫২তম সমাবর্তনে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এ্যাড. মো. আবদুল হামিদ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানোর এসব কোর্স বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবার এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও (রাবি) এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জোর দাবি উঠেছে।

এর আগে সান্ধ্য কোর্সের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে এটি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নেয়নি। তবে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্দেশনা দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব সান্ধ্য কোর্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ পারভেজ বলেন, আমরা দীর্ঘ পরিশ্রমের পর যোগ্যতা নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এরপর আমরা যেই সনদপত্র পাই, তার সমমানের সনদ সান্ধ্যকোর্সে টাকার বিনিময়ে দেয়া হয়। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় কখনওই এভাবে টাকা দিয়ে সনদ বিক্রি করতে পারে না। এই সনদব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ।

রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, সান্ধ্যকোর্স সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের ধারণার পরিপন্থী। টাকার জোরে সনদপ্রাপ্তির মত এমন বৈষম্য একটি গণতান্ত্রিক বিশ^বিদ্যালয়ে থাকতে পারে না। এছাড়া সান্ধ্যকোর্সের নেশা শিক্ষকদের টাকার পেছনে চালিত করছে। ফলত গবেষণা ও পাঠদানের মান কমবে এটাই স্বাভাবিক কথা। সুতরাং অবিলম্বে এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ।

এদিকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ভবন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও ইউজিসির নির্দেশনার পর সান্ধ্যকোর্স নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। খুব শীঘ্রই এই নিয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনওই এই ধরনের কোর্স সমর্থন করি না। ইউজিসির নির্দেশনার কথা শুনেছি। এই ব্যাপারে একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান বলেন, এই বিষয়ে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে সামনের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি তোলা হবে। যদি বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে তাহলে বর্তমানে চলা কোর্সগুলো শেষ করা হবে, নতুন করে এসব কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হবে না।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক সানশাইন