রাবিতে এমবিএ’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ঠেকাতে সভায় তুলকালাম

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সান্ধ্য এমবিএ’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত ঠেকাতে একাডেমিক কমিটির সভায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। গত সোমবার বিকেলে আয়োজিত সভায় বিভাগের সভাপতি কয়েকজন শিক্ষকের তোপের মুখে পড়েন। তারা সভাপতিকে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়া ও দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

বিভাগের সভাপতি জাফর সাদিক জানান, এ সভায় তিনজন শিক্ষক তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। তারা তাকে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়া, দরজায় তালা লাগিয়ে দেওয়া এবং সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে না দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগামের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার ‘প্রিন্সিপল্স অব অ্যাকাউন্টিং’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। গত ৩ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় ওই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

ওই দিন দুপুরেই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারেন। তারা নতুন করে প্রশ্ন করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

সূত্র জানায়, ওই দিনই বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কীভাবে প্রশপত্র ফাঁস হয়েছে তা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা দরকার। এছাড়া প্রকৃত ঘটনাটি উঠে নাও আসতে পারে। এ জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত কমিটি করে সত্য উদঘাটনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু এই তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষককেও চিহ্নিত বা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি ওই বিভাগের নতুন সভাপতি হিসেবে যোগদান করেন জাফর সাদিক। তার সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই একাডেমিক কমিটির সদস্যরা এই তদন্তের বিষয়টি জানতে চান। পরে তিনি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় ওই পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে তা প্রচার করার জন্য বিভাগের তৎকালীন সভাপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির একটি প্রতিলিপিও বর্তমান সভাপতিকে দেয়া হয়।

বিভাগের বর্তমান সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, তিনি জরুরি সভায় সতর্ক করার বিষয়টি তুলতে চাইলে কমিটির সদস্যরা আপত্তি করেন। তাদের বক্তব্য, সান্ধ্য এমবিএর প্রশ্ন শুধু কোর্স শিক্ষকের নিয়ন্ত্রণেই থাকার কথা এবং সকল প্রকার গোপনীয়তা রক্ষা করে তারই পরীক্ষার কেন্দ্রে সরবরাহ করার কথা। এ জন্য তার আলাদা পারিশ্রমিক রয়েছে। তারা বিষয়টির তদন্ত দাবি করেন।

সভাপতি বলেন, তারা সভা শুরুর আগে তাদের একজন শিক্ষকের একটি চিঠি সভার আলোচ্যসূচিভুক্ত করার প্রস্তাব করেছিলেন কিন্তু তৎক্ষণাৎ তিনি তা করেননি। এই অজুহাতে তারা তার সঙ্গে এই আচরণ করেন। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্তের বিরোধীতা করে তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

এক পর্যায়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তারপর ওই শিক্ষকেরা একেএকে সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যান। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত চাওয়ার বিষয়টি সভায় পাস হয়।

খবরঃ ডেইলি সানশাইন

1 thought on “রাবিতে এমবিএ’র প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ঠেকাতে সভায় তুলকালাম

Comments are closed.