রাবিতে খাবারের দাম কম, মান নেই

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোটেলগুলোতে খাবারের দাম নিয়ে স্বস্তি থাকলেও পরিবেশ ও মান নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এসব হোটেল মালিকরা অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নি¤্নমানের খাবার পরিবেশন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে করে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছনে শিক্ষার্থীরা।

সকালে খিঁচুড়ি ও ছোলা দিয়ে নাস্তা করছিলেন ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তন্ময় কুমর। প্রতিদিন এখানে নাস্তা করেন, না মাঝে মাঝে করেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যেদিন সকাল ৮টা বা ৯টায় ক্লাস থাকে সেদিন এখানে নাস্তা করি। কারণ মেসে সকালের নাস্তাটা সময়মত পাওয়া যায় না। তাই বেশিরভাগ সময় এখানে নাস্তা করি। খাবারের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আনেকটা স্বস্তির কথা জানান।

এদিকে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করেন, ভাত-ডিম দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান। তিনি জানান, ১টা থেকে ক্লাস আছে। বেলা ১২টার ক্লাসটা একটু আগে শেষ হয়েছে। যেহেতু মেসে যাওয়ার সময় নেই তাই এখান থেকে খেয়ে নিচ্ছি। খাবারের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, মান মোটেও ভালো না। খাবারটা স্বাস্থ্যসম্মত না তবুও খেতে হয়। তবে অন্য জাগায় খান না কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাড়ি থেকে মাস চলার জন্য নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেয়। তাই ইচ্ছা থাকলেও ভালো জাগায় খেতে পারি না।

টুকিটাকির পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেন, ভাষা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাজন। তিনি জানান, অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা হয়। যারা খাবার তৈরি করেন তারা একই হাতে বিভিন্ন কাজ করেন। একটা কাজ করার পর হাত না ধুয়ে অন্য কাজ করেন। গ্লাস ও প্লেটগুলো ঠিক করে পরিষ্কার করা হয় না। যেখানে খাওয়ার পর গ্লাস ও প্লেটগুলো ধোয়ার জন্য রাখা হয় সেখানে কুকুর ও কাকে এগুলোতে মুখ দেয়। যে তেল ব্যবহার করে তা খুবই নি¤্নমানের। খাবারগুলো খোলা জায়গায় রাখার কারণে মশা-মাছি বসে। এতে করে বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়াতে পারে।
তিনি আরো বলেন, দোকানগুলো ঘেরা না থাকার কারণে চারপাশ থেকে ধুলাবালি এসে খাবারের উপর পড়ে। এসব দোকানে যারা কাজ করেন তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে না। দোকানগুলোর উপরে কোনো রকম কাগজের ছাউনি দেওয়া। ফলে উপর থেকে খাবারে ধূলাবালি ও গাছের পাতা পড়ে। আর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে কাকের উৎপাত। এমনকি খাবার সময় আমার গায়ে দু’দিন মলত্যাগ করেছে।

বিকেলে বন্ধুদের সাথে টুকিটাকিতে চা পান করা ফার্মেসী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম বলেন, আমি এখানে শুধু চা খাই আর কিছু খাই না। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রথম দিকে এখানে একবার সিংগাড়া ও চপ খেয়েছিলাম। সেদিন আমার পাঁচবার টয়লেটে যেতে হয়েছিলো। আমার মনে হয় খাবারটা আগের দিনের ছিলো। অনেক সময় দোকানগুলোতে দু’তিন দিনের পঁচা-বাসী খাবারও বিক্রি করা হয়।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে টুকিটাকির পশ্চিম পাশের দোকান মালিক বাবুল হোসেন বলেন, আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসে না। খাবারের মান ভালো আছে। না হলে দোকান তো সবসময় ভরা থাকতো না। হয়তো একটু সমস্যা হতে পারে খাবার রান্না নিয়ে। কারণ কর্মচারীরা তো মেশিন না যে সব জিনিস মেপে মেপে দেবে। হয়তো কখনো লবণ, হলুদ কম-বেশি হতে পারে। কাকের উৎপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সল্প পুঁজির ব্যবসায়ী। দোকানগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ছাড়া আমরা এখানে স্থায়ীভাবে দোকন নির্মাণ করতে পারি না। যেহেতু দোকানগুলো স্থায়ী না সেহেতু কাকের উৎপাত একটু থাকবে। তাছাড়া কাক আশেপাশে থাকে দোকানের মধ্যে আসে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্র উপদেষ্টা মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু এসব খাবারের দোকানগুলোকে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না সেহেতু এদের বিরুদ্ধে আমরা সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। শিক্ষার্থীরা কোথায় খাবে না খাবে সেটা তাদের পছন্দ। তাছাড়া ডীনস্ কমপ্লেক্সে শিক্ষার্থীদের একাটা ক্যান্টিন আছে তারা সেখানে না যেয়ে টুকিটাকিতে আসলে আমাদের সেভাবে করার কিছু থাকে না। এ ধরনের চত্বরগুলোর উন্নয়ন করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নের জন্য যে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি সেখানে প্রতিটি অনুষদ ভবনের জন্য আলাদা খাবারের জোন করার ভাবনা আছে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারেব ব্যবস্থা থাকবে।

রাবি মেডিকেল সেন্টারের মেডিসিন বিভাগের উপ-প্রধান চিকিৎসক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ ধরনের খাবার মানুষের সহ্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে। যারা এগুলা খেয়ে সহ্য করতে পারে তাদের কোনো সমস্যা নেই। আবার যাদের সহ্যক্ষমতা নেই তাদের পেটের অসুখ, পানিবাহিত রোগ যেমন- ডায়রিয়া, টাইফয়েড, আমাশয়, ভাইরাল জনিত রোগ যেমন- হেপাটাইটিস-বি রোগ হতে পারে। কাকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাক তো সরাসরি খাবারে যেতে পারছেনা তাই ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে মশা-মাছির কারণে ভাইরাসজনিত রোগ হতে পারে। আমাদের কাছে যখন এ ধরনের রোগী অনেক আসে। তখন আমরা তাদের লক্ষণ দেখে ব্যবস্থা দিয়ে থাকি। তাছাড়া আমরা শিক্ষার্থীদের এ ধরনের খাবার পরিহার করে প্রচুর পরিমান বিশুদ্ধ পানি, তরল জাতীয় খাবার ও ফলমূল বেশি খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন