রাবিতে বর্ষবরণে ব্যাপক পস্তুতি, ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বাঙ্গালীর ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে বৈশাখের প্রথম দিনটি ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। আর মাত্র কযেকটা দিন, কয়েকটি মূহূর্ত। চৈত্র মাসের বিদায়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পুরানো একটি বছর। বাঙ্গালীর ইতিহাসে যোগ হবে আরেকটি নতুন বছর অর্থাৎ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ।

বর্ষবরণের এই দিনটিকে বরণ করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন বিভাগ, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, থানা ও জেলা সমিতিগুলো।

সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মূল আকর্ষণ হলো চারুকলা বিভাগ। চারুকলা বিভাগ থেকে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাস্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মূল শোভাযাত্রা বের করা হয়।

প্রতিবারের ন্যায় পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চারুকলা বিভাগে চলছে নানা প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করতে শুরু করেছেন প্লাকার্ড, মুখোশসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি সম্পর্কিত লোকজ যন্ত্রপাতি। সব মিলিয়ে ব্যস্ততম সময় পার করতে হচ্ছে তাদের।

তবে এবারই প্রথম বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করতে এবার ভিন্নমাত্রা যোগ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবারই প্রথম কেন্দ্রীয় বর্ষবরণ করার প্রস্তুতিও নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চরুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, “আমরা পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বেশ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সেগুলোকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি বেশ ভালোভাবেই কাজ শেষ করতে পারবো।”

এদিকে, বাংলা নববর্ষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের মধ্যে শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণের ধুম পড়েছে।

চারুকলা অনুষদের মৃতশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মোস্তফা শরীফ আনোয়ার বলেন, “প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার জন্য আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করে যাচ্ছে। শোভাযাত্রাসহ চারুকলা প্রাঙ্গনে মেলা হবে। সুষ্ঠুভাবে দিনটি উদযাপন করতে পারব বলে আশা করছি।” সেই সাথে বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহোযোগিতার আশাও পোষণ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, “এটা আমাদের জন্য একটা বিশেষ দিন। প্রতিবারই দিবসটি খুব উপভোগ করি। অনেকেই দিবসটি উপলক্ষ্যে চুরি, মালা, ফিতা, বৈশাখি শাড়িসহ বেশ কিছু প্রসাধনী কিনেছি। আশা করছি এবারের পহেলা বৈশাখে আগের চেয়েও বেশি মজা করতে পারবো।”

শুধু মেয়েরা নয়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কেনাকাটার ধুম পড়েছে ছেলেদের মধ্যেও। কিনতে শুরু করেছেন ধুতি, পায়জামা-পাঞ্জাবি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ শিমুল ও রেজওয়ানুল হক বিজয় বলেন, “এবারে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বন্ধুরা বড়ো ভাইদের সঙ্গে একই রঙের পাঞ্জাবি বানাতে দিয়েছি। সবাই একই পোশাকে হাঁটবো বিষয়টা ভাবতেই ভালো লাগছে।”

ক্যাম্পাসলাইভ-http://www.campuslive24.com/campus.159028.live24/