রাবির ‘ই’ ইউনিটের সংশোধিত ফল প্রকাশ,ডিনের দুঃখ প্রকাশ –

রাজশাহী বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ই’ ইউনিটের জোড় রোল নম্বরধারীদের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছে অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নীলুফার সুলতানা। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ডিন্স কমপ্লেক্্ের সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি এই অনাকাঙ্খিত ভূলের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন। নতুন এই সংশোধিত ফলে ১৮৩ জন ভর্তিচ্ছুর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এ নিয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংবদ সম্মেলনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নীলুফার সুলতানা আরো বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ইউনিটের ফলাফল পরিবর্তন হওয়ায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। এতে প্রথমে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা ব্যাতীত আমাদের আর করার কিছুই নাই। নতুন করে পুনরায় ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ফলাফলের ভিত্তিতেই ‘ই’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এসময় কম্পিউটার সেন্টারের প্রশাসক প্রফেসর খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, ‘ওএমআর মেশিনে উত্তরপত্র স্ক্যানিং করার পর প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তিচ্ছূদের সিরিয়াল দেয়া হয়। ফল কম্পিউটারে গড় করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক্সেল শিটে ১৮৩জনের ফল পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলাফল পুনরায় যাচাই করার সময় এই ত্রুটি আমাদের দৃষ্টি গোচর হয় এবং ফলাফল পুনরায় নতুন ভাবে প্রকাশ করায় যোগ্য শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড.এ এম কে নোমান বলেন, ‘এ সমস্যা এখন ধরা না পড়লেও ভর্তির জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার সময় অবশ্যই দৃষ্টি গোচর হতো। তখন ভর্তির জন্য সুযোগপ্রাপ্তদের সমস্যা ধরা পড়ত এবং তারা ভর্তি হতে পারত না। তবে ফলাফল নিয়ে কোনো অভিযোগ আসলে অভিযোগকারী ভর্তিচ্ছূ উত্তরপত্র প্রদান করে তাকেই যাচাই করতে দেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুর থেকে হঠাৎ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘ই’ ইউনিটের ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। ফল দেখার জন্য ওয়েবসাইটে (http://admission.ru.ac.bd/) ঢুকলে ‘ই’ ইউনিটের নিচে লেখা আছে ‘ঞযব জবংঁষঃ রং টহফবৎ ঝপৎঁঃরহু । পরে সোমবার সকাল থেকে জোড় রোল নম্বরধারী ভর্তিচ্ছুদের যাদের সিরিয়াল প্রথম দিকে ছিল অনেকের ফল আর দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করলে আলতাফ হোসেনের নামে এক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে আমার সিরিয়ার ছিল ২৬৫তম। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার রোলনম্বরে (ই১৯৬৩০) সার্চ দিলে ফেল দেখাচ্ছে। এতে আমি খুব বিব্রত বোধ করছি।
আগের রেজাল্টে কোনো সিরিয়ালই আসেনি কিন্তু সংশোধনীতে মেধা তালিকায় স্থান করে নেওয়া বিথী খাতুন (রোল- ই২০৭৬৪) বলেন, আগের রেজাল্টে আমার সিরিয়াল না আসায় পারবারিক ও মানসিকভাবে আমি নানা চাপের মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু সংশোধনী রেজাল্টে আমার সিরিয়াল এসেছে ১৯৩।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর প্রদীপ কুমার পান্ডে, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. রুহুল আমিনসহ প্রমূখ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।