রাবির গ্রন্থাগারের এসি অকেজো, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) অকেজো থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এসিগুলো মেরামতের জন্য বারবার গ্রন্থাগারের প্রশাসককে বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রন্থাগারের সাধারণ পাঠকক্ষে হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিশাল এ পাঠকক্ষের দুই অংশ জুড়ে মাত্র ১৪টি ফ্যান চালু রয়েছে। কম্পিউটার ল্যাব, অডিও ভিজুয়াল শাখা এবং পত্রিকা কক্ষে এসি বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র সাময়িকী শাখা ও গ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষে চালু রয়েছে এসি।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সেকশন অফিসার মো. সালেহ হামিম বলেন, গ্রন্থাগারের মোট ২৫টি এসির মধ্যে ১৭টি অকেজো রয়েছে। আর যে রুমগুলোতে একাধিক এসি রয়েছে সেগুলোর দুই একটি সচল থাকলেও তা চালাতে পারছি না। কারণ ওই একটিও ওপর বেশি চাপ পড়লে সেটিও নষ্ট হয়ে যাবে। আর এসিগুলো মেরামতের জন্য প্রকৌশল দফতর বরাবর চিঠি দিয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। অতি দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে করছেন ওই অফিসার।

গ্রন্থাগারের সাধারণ পাঠকক্ষের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এ শিক্ষার্থী দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান এখানে পড়াশুনা করে। তিনি বলেন, ‘প্রচন্ড গরমে পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছি না। এসিগুলো সচল থাকলে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করা যেত। আর এখানে যে কয়টি ফ্যান দরকার তার চারভাগের একভাগও না থাকার কারণে প্রায় সময় ফ্যান নিজের দখলে নেওয়া নিয়ে ঝগড়া করতে দেখা যায়।’

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠকক্ষের এসিগুলো বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যান না থাকায় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে বসে পড়াশুনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাঁদের পড়াশুনা বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, গ্রন্থাগারের একাধিক এসি অকেজো হয়ে আছে। এর আগে বহুবার প্রকৌশল দফতর বরাবর এসি মেরামতের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও এখনো তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুম মুনীর বলেন, গত দেড় বছর আগে এসিগুলো মেরামত করা হয়েছিল। এরপর আর মেরামত করা হয়নি। আমাদের হাতে অর্থ থাকে না, অর্থনৈতিক বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখভাল করে। এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক শূন্য থাকায় কাজটি আটকিয়ে রয়েছে। তবে অতি দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

খবরঃ বিডি সারাদিন