রাবির গ্রন্থাগার থেকে থিসিস পেপার উধাও

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, কারু শিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রের পিএইচডি থিসিস নকল করে ডিগ্রী নেওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে ওই পেপার দুটি সড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ডকুমেন্টশন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ শাখায় ওই থিসিস পেপার দুটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২১ অক্টোবর দৈনিক সানশাইন পত্রিকায় ‘ছাত্রের থিসিস নকল করে শিক্ষকের ডিগ্রী’ এই শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন প্রকাশিক হওয়ার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ডকুমেন্টশন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ শাখায় শিক্ষক ও গবেষকদের পড়ার জন্য সংরক্ষিত থিসিস পেপার দুটি আর সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।

গত মঙ্গলবরা সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের রেফারেন্স শাখা এবং ডকুমেন্টশন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ শাখায় গিয়ে থিসিস পেপার দুটি চাইলে তা দিতে পারেননি দায়িত্বরত ব্যক্তিরা। ওই থিসিস পেপার দুটির কল নম্বর হলো, ‘ডক/৭০৯-৫৪৯২/আলীবা উ-৩১৪৬’ ও ‘ঞঐঊ/৭৪৫-০৯৫৪৯২/পারবা উ-৩৬৬৪’।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ডকুমেন্টশন ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ শাখায় থিসিস পেপার দুটি দেখতে চাইলে সেখানকার তত্ত্বাবধায়ক একরামুল হক সরকার জানান, ‘ওই কল লিস্টের থিসিস পেপার দুটি কয়েক দিন থেকে আর তাদের শাখায় নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা অন্যত্র নিয়ে গেছেন।’

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘থিসিস পেপার নকল করে ডিগ্রী গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর তা আমাদের নজরে এসেছে। অন্যের মাঝে বিভ্রান্তি যাতে না ছড়ায় তাই থিসিস পেপার দুটি দুষ্প্রাপ্য শাখা থেকে সরিয়ে আমার কাছে রেখেছি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রন্থাগারিক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুষ্প্রাপ্য শাখায় সংরক্ষিত কোনো থিসিস পেপার শিক্ষক বা গবেষক নিতে পারেন না। সেখান থেকে পুরো থিসিস পেপার ইস্যূ করারও কোনো বিধান নেই। তবে কেউ চাইলে গ্রন্থাগারের নিজস্ব ফটোকপি মেশিন থেকে তার কিছু অংশ কপি করতে পারেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল বা পিএইচপি থিসিস হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে তার একটি কপি গ্রন্থাগারের দুষ্প্রাপ্য শাখায় সংরক্ষণের জন্য পাঠান। শিক্ষক ও গবেষকরা ওই শাখায় গিয়ে প্রয়োজনে তা পড়তে পারেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘গ্রন্থাগার থেকে সাময়িক সময়ের জন্য থিসিস পেপার দুটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। থিসিস জালিয়াতির বিষয়টি পরবর্তীতে তদন্ত করে দেখা হবে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইন, কারু শিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহযোগী মোহাম্মদ আলী ‘বাংলাদেশের কারুশিল্প: একটি নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা’ এই শিরোনামে ২০০৯ সালের অক্টোবরে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ডিগ্রী গ্রহনের তিন বছর পর ২০১২ সালের জুলাইয়ে তাঁর শিক্ষক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আজাদী পারভীনের পিএইচডি ডিগ্রী অনুমোদন করে সিন্ডিকেট। ‘বাংলাদেশের কারুশিল্প: ঐতিহ্য ও আধুনিকতা’ শিরোনামের আজাদী পারভীনের পিএইচডি থিসিসের প্রায় ৯০ ভাগ মোহাম্মদ আলীর থিসিস পেপার থেকে নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। আজাদী পারভীনের ওই থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের তৎকালীন অধ্যাপক মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী। যিনি বর্তমানে রাবি থেকে লিয়েনে (ছুটি) নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করছেন।

সম্প্রতি চারুকলা অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক আজাদী পারভিনের থিসিস জালিয়াতির বিষয়টি বুঝতে পারেন। ছাত্রের পিএইচডি থিসিস চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার বিষয়টি একাধিক শিক্ষকের মধ্যে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে চারুকলা অনুষদে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আজাদী পারভিন নিজেই তাঁর পিএইচডি ডিগ্রী বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন।

দৈনিক সানশাইন