রাবির ছাত্রী হলে খাবারের মূল্য বৃদ্ধিতে ভোগান্তি

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চলমান ভর্তি পরীৰাকে কেন্দ্র করে ছাত্রী হলগুলোতে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে খাবারের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ডাইনিং ও ক্যান্টিনের মালিকরা। তিনটি আবাসিক হলে খাবার বিক্রেতা খেয়াল খুশি মতো বেশি দাম নিলেও খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ছাত্রীদের। হল কর্তৃপৰকে বিষয়টি জানালেও কোনো সুরাহা করছে না প্রশাসন। তবে মূল্য বেশি নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করছে বিশ্ববিদ্যালয় ভোজনালয় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রহমতুন্নেসা হল, মন্নুজান হল ও তাপসী রাবেয়া হলে মিল প্রতি অবৈধভাবে ৫/৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ছাত্রীরা বিষয়টি ডাইনিং-ক্যান্টিন ম্যানেজারদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলছেন-‘বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় দাম বেশি ধরা হচ্ছে।’ কিন্তু ছাত্রীদের দাবি- নিম্নমানের যে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে, স্বাভাবিক সময়ে এর চেয়েও ভাল খাবার দেয়া হয়। অথচ তখন যে দাম বিক্রি করে, এখন তার চেয়েও বেশি নেয়া হচ্ছে। বেশি বিক্রি হওয়ায় বরং ৰতি নয়, লাভবান হচ্ছে মালিকপৰ।

মন্নুজান হলের আবাসিক ছাত্রী জেম মনি বলেন, ‘নির্ধারিত মূল্য না মেনে গত রোববার দুপুর থেকে কোন নোটিশ ছাড়াই খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আজও দেখছি ওই বেশি মূল্যেই খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।’ তাপসী রাবেয়া হলের আসমা সিদ্দিকা বলেন, ‘হল প্রশাসন আমাদের উপর রীতিমতো জুলুম করছে। একে তো তারা মূল্য বেশি নিচ্ছে তার উপর বাসিপচা সব খাবার পরিবেশন করছে ডাইনিংয়ে।’

জানতে চাইলে মন্নুজান হলের প্রাধ্যৰ অধ্যাপক জিন্নাত ফেরদৌসী বলেন, ‘ডাইনিংয়ে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়ে থাকলে অবশ্যই তা বন্ধ করা হবে।’রাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘হল প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবে।’

‘এইচ’ ও ‘জে’ ইউনিটের পরীৰা অনুষ্ঠিত: এদিকে ভর্তি পরীৰার তৃতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার প্রকৌশল অনুষদভুক্ত ‘এইচ’ ও আইবিএ -এর অধীনে ‘জে’ ইউনিটের ভর্তি পরীৰা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এইচ’ ইউনিটের পরীৰা তিন শিফটে এবং ‘জে’ ইউনিটের পরীৰা একটি শিফটে গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ‘এই’চ ইউনিটের প্রথম শিফট, সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দ্বিতীয় শিফট এবং দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তৃতীয় শিফটের পরীৰা গ্রহণ করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ‘জে’ ইউনিটের পরীৰা একটি শিফটে পরীৰা নেয়া হয়। এদিন কোনো ধরনের জালিয়াতি কিংবা অসুদাপায় অবলম্বনের ঘটনা ঘটেনি। ভুল করায় তিন ছাত্রের উত্তরপত্র বাতিল করা হয়েছে।
আজ বিজ্ঞান ও চার্বকলা অনুষদের পরীৰা: আজ বুধবার ভর্তি পরীৰার চতুর্থ দিন সকল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফট, সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পযন্ত দ্বিতীয় এবং দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত তৃতীয় শিফটের পরীৰা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পর্যন্ত চার্বকলা অনুষদভুক্ত ‘আই’ ইউনিটের পরীৰা নেয়া হবে।

আগামী ২৬ অক্টোবর কৃষি অনুষদভুক্ত ‘জি’ ইউনিটের পরীৰা গ্রহণের মধ্য দিয়ে চলতি শিৰাবর্ষে ভর্তি পরীৰা শেষ হবে। সব ইউনিটের পরীৰা শেষে ক্রমান্বয়ে ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটি সূত্র।

খবরঃ দৈনিক সোনালী সংবাদ