রাবির বঙ্গমাতা হলে কবে উঠবেন ছাত্রীরা?

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আবাসন সঙ্কট নিরসনের জন্য সম্প্রতি নির্মাণ করা হয় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল। নির্মান কাজ শেষ করে সব সুযোগ সুবিধা সংযুক্ত করা হলেও শুধুমাত্র স্টাফ নিয়োগ জটিলতায় সিট বরাদ্দ দেয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ছাত্রীরা উঠতে পারেনি হলটিতে। প্রশাসনের উদাসীনতায় এর মূল কারণ বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে না পেরে সিট বরাদ্দ প্রাপ্ত ছাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় নবনির্মিত এ হলের ২৬৪টি কক্ষে মোট ৫২৮ জন ছাত্রীর আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম পার্যায়ে প্রায় ৩০০জন ছাত্রীকে এই হলে আবাসিক সুবিধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। সে অনুযায়ী ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত ছাত্রীদের এই হলে সিট বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়।

এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে পুরাতন পাঁচটি হল হতে জ্যোষ্ঠতার ভিত্তিতে ৪০ জন করে ছাত্রীকে হলের সিট বরাদ্দ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী ঐ মাসেই পুরাতন হলের সিট বরাদ্দ প্রাপ্ত ছাত্রীরা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে হল ও নিজের রোল পরিবর্তন করে ফেলে।

এদিকে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে ছাত্রীদের হলে উঠার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারনে দফায় দফায় হলে উঠার তারিখ পেছাতে থাকে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হল পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে হল পরিবর্তন করে ফেলায় তারা কাগজে কলমে পুরাতন হলের আবাসিক না হলেও সেখানেই অবস্থান করতে হচ্ছে এবং একাডেমিক বিভিন্ন কাজের জন্য বঙ্গমাতা হলের অফিস কক্ষে ছুটে যেতে হচ্ছে।

আবার তাদের সিটে নতুন শিক্ষার্থীরা বরাদ্দ পেলেও সিট খালি না হওয়ায় উঠতে পারছেনা বরাদ্দ পাওয়া ছাত্রীরা।

এ নিয়ে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, “আমি ইতিমধ্যে আমার হল ও রোল পরিবর্তন করে ফেলেছি। এখন একাডেমিক কাজে আমাকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। হল প্রাধ্যক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কোন কর্ণপাত করেন না।”

সারেজমিন বঙ্গমাতা হলে গিয়ে দেখা যায় হলটির তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অফিস কক্ষে দুইজন অফিস স্টাফ নিয়োগ দেয়া হলেও হলে অন্যান্য স্টাফ নিয়োগ দেয়া হয়নি। নিয়োগ দেয়া হয়নি স্থায়ী কোন আবাসিক শিক্ষক। ফলে সব রকম প্রস্তুতি শেষ হবার পরেও শুধুমাত্র স্টাফ নিয়োগ জটিলতায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত ছাত্রী।

এব্যাপারে বঙ্গমাতা হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ফাহিমা খাতুনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, “শুধু হলে স্টাফ না থাকায় আমরা ছাত্রী তুলতে পারছিনা। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনকে কয়েকবার জানিয়েছি। তবে যে কোন জটিলতার কারণে প্রশাসন হয়তো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আমারা আশাবাদি গরমের ছুটির পর হলটি পূর্ণ রুপে চালু করতে পারবো।”

এ ব্যাপারে প্রশাসন ভবনে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সময় দিতে পারেননি।

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তড়িঘড়ি করে ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ কর্তৃক হলটি উদ্বোধন করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর উদ্বোধনের এক বছর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো সম্ভব হয়নি।

রাবির প্রকৌশল দপ্তর সূত্রমতে, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের একবছর পর ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর হলটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন ও দেশ উন্নয়ন লিমিটেডকে। এরপর ২০ কোটি ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট হলটির তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

প্রকৌশল সূত্র আরো জানায়, প্রথম ধাপে প্রকল্প শেষের মেয়াদ ছিল ২০১৪ সাল। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি যৌথভাবে কাজ করা ওই দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এরপর দ্বিতীয় ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট করা হয়।

খবরঃ ক্যাম্পাসলাইভ২৪