রাবির হলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ চার জনকে বেধাড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্রলীগের ক্যাডাররা মুখে গামছা-রুমাল পেচিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নূর জাহিদ সরকার নিয়নসহ ৪জনকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে হলের ৩০১ নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরে পুনারয় এই কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ল্যপটপ, গিটারসহ মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে হামলাকারীরা বলে দাবি করেছে আম্মান।

ঘটনায় গুরুতর আহতদের নাম হলো, গত কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক নূর জাহিদ সরকার নিয়ন, লোক প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নূল কুতুবুল আলম সবুজ, দর্শন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আম্মান, ইতিহাস মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নিশান চৌধুরী। এরা সবাই লতিফ হল ছাত্রলীগের পূর্বের সভাপতি প্রার্থী শামীমের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শক্রুতার জের ধরে রাত আড়াইটার দিকে হল ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর ইসলামের অনুসারী নিরব (ভাষা-৪র্থ বর্ষ), সংগীত (নৃ-বিজ্ঞান-১ম বর্ষ), নাজমুল(ভাষা-৩য় বর্ষ), সনোয়ার, সমীরণ কুমার ম-ল (ফাইন্যান্স এ- ব্যাংকিং-২য় বর্ষ) সহ ১০-১২ জন মুখে গামছা-রুমাল পেচিয়ে রোড-হাতুড়িসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে ৩০১ নং কক্ষে প্রবেশ করে সবাইকে রুম থেকে বের হয়ে আসতে বলে । তারা বের হতে অস্বীকৃতী জনালে এলোপাতাড়ীভাবে রড-হাতুর দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে নিয়ন ও আম্মান পালিয়ে নিচ তলায় হলের পুলিশ কক্ষে যেয়ে আশ্রয় নেয়। এসময় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা সবুজ ও নিশানকে লোহার রোড-হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটাতে থাকে। এক পর্যায়ে সবুজকে পিটাতে পিটাতে তিন তলা থেকে দুুই তলায় নিয়ে আসার সময় বারান্দায় লুটিয়ে পড়ে। তখন ঘটনাস্থলে হলের পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে মুখোশধারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে হল পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্সের সহযোগিতায় পুলিশ তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র পাঠিয়ে দেয়।

এদিকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পরে পুনারয় এই কক্ষের দরজা ভেঙ্গে এই ল্যপটপ, দুইটি গিটার, পাঁচ হাজার টাকা এবং ট্যাংক নিয়ে চলে যায় বলে আম্মান অভিযোগ করেছে। আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিয়ন বলেন, আমার আগামী শুক্রবার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে পরীক্ষা আছে। তাই আমিসহ আরও দ্ইুজন পরীক্ষার্থী হলের ছোট ভাই আম্মানের কাছে থাকার জন্য আসি। হঠাৎ কয়েকজন মুখে গামছা পেচিয়ে রড হাতুর নিয়ে প্রবেশ করে। আমি কিছুু বুঝে উঠার আগেই তারা হামলা চালায়। আমি ‘চেচিয়ে চেচিয়ে’ পরিচয় দিলেও বারবার আমাদের সকলকে আঘাত করতে থাকে।

জানতে চাইলে লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদলের দুইজন ও সাবেক ছাত্রলীগের নেতারা আগামী ২০ তারিখ রাকাবের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। সপরে ছেলেরা তাদেরকে হল থেকে বের করে দেয়।’ নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পরবর্তীতে যাতে এই ঘটনায় সৃষ্টি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

নয়া দিগন্ত