রাবি অধ্যাপক হত্যা মিশনে অংশ নেয় তিনজন

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন তিনজন। দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় মোটরসাইকেল।

৪/৫ মিনিটের মধ্যে নৃশংসভাবে খুন করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তারা। এর মধ্যে দুইজন সরসারি হত্যাকাণ্ডে ও অপরজন মোটরসাইকেলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন এ তথ্য জানান।

এর আগে বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাবি অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

তিনি বলেন, মূলত তিনটি ক্লু ধরে পুলিশ মামলার তদন্তকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংস্কৃতিমনা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় ধর্ম নিয়ে কোনো বক্তব্য এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো শত্রুতার বিষয়টি জানা। এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে প্রথম দুটিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণাদি পুলিশের হাতে আসেনি। যা তদন্ত হচ্ছে সবই অনুমাননির্ভর বলে তিনি জানান।

অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে তিন ঘাতক অংশ নেওয়ার বিষয়টি তদন্তের সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘তিনজন একই মোটরসাইকেলযোগে গিয়ে হত্যায় অংশ নেয়। এর মধ্যে দুইজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অপরজন মোটরসাইকেলে কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মোটরসাইকেল রাখার স্থান থেকে ২০ গজ দূরে গলির মধ্যে অধ্যাপক ড. রেজাউলকে হত্যা করা হয়। পরে ঘাতকরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।’

এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার জানান, মামলার তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হলেও তিনি নিজেই এর কার্যক্রম মনিটরিং করছেন। এছাড়া মামলাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টা এর কার্যক্রম তদারকির জন্য মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে।

সেলের অন্য সদস্যরা হলেন- রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম, বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার ইবনে গোলাম সাকলায়েন, মহানগর গোয়েন্দা শাখা পুলিশের সহকারী কমিশনার সুশান্ত চন্দ্র রায়, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান।

এছাড়া মহানগর ডিবির সহকারী কমিশনার সুশান্ত চন্দ্রকে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র থেকে আজ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে আরএমপির মুখপাত্র করা হয়েছে সহকারী কমিশনার (রাজপাড়া) ইফতে খায়ের আলমকে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেলে এক আদেশে আরএমপির মুখপাত্র পরিবর্তন করা হয়। এখন থেকে তার পরে আরএমপির মুখপাত্র হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম।

এছাড়া রাজশাহীর আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখন থেকে প্রতিদিন দুপুর ১২টা ও বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

এদিকে, ড. রেজাউল হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে রাবির লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও মহানগরীর ১৯নং ওয়ার্ড শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ডিবি কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এছাড়া রাজশাহীর বিভিন্ন রেঁস্তোরা, শপিংমল, দোকান ও বিভিন্ন পয়েন্টে লাগানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করছে পুলিশ।

গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি  থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

তার ঘাড়ের ওপরে পর চারটি কোপের চিহ্ন মিলেছে। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

খবরঃ বাংলানিউজ