রাবি শিক্ষক সমিতির ধর্মঘট পালিত, কাল মহাসমাবেশ

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (রাবিশিস)।

সোমবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাবিতে সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়। পরে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালিত হয়।

এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল (৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মাহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মহাসমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি, রাজশাহীর সকল সাংসদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

অবস্থান ধর্মঘটে রাবিশিসের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাহ আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সেলিনা পারভীন, সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. ছাদেকুল আরেফিন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. তোফাজ্জল হোসন, ভূতত্ত্ব ও খণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক খোন্দকার ইমামুল হক,সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান, সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক অধ্যাপক জালাল উদ্দিন প্রমুখ।

অবস্থান ধর্মঘটে অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার পূর্বে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। আর কতো মৃত্যু হলে আমরা জাগবো, সুশীল সমাজ জাগবে? প্রতিনিয়ত আমাকে ভাবতে হচ্ছে, আমাকে মেরোনা, আমি সেতার বাজাই না,  আমি মুক্ত চিন্তা করিনা, আমি নাস্তিক না। আমি কি স্বাধীন? অধ্যাপক রেজাউল করিম কি স্বাধীন ছিলেন ? আমি স্বাধীন নই, আমার কথা বলার অধিকার নেই, আমরা সবাই চূড়ান্ত নৈরাজ্যের মধ্যে বাস করছি। প্রতিনিয়ত ভাবছি আজ কার পালা? কাল কার পালা? আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের শেষ চাই।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও রাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘যখনই মুক্তির কথা বলা হয় তখনই হত্যার সম্মুখিন হতে হয়। একজন পুলিশ যখন মারা যায়, তখন তাকে দেখতে হাসপাতাল, পরিবারের কাছে ছুটে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু রাবির একজন অধ্যাপককে হত্যা করা হলো কেউ তাকে দেখতে আসেনি, সহানুভূতি জানাতে আসেনি। তার অপরাধ তিনি মুক্তমনা, তিনি সেতার বাজাতেন ? অধ্যাপক রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে আপনারাও রেহাই পাবেন না। আজ রাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, কে হত্যা করেছে ? কারা হত্যা করেছে? সে যারাই হোক, আমাদের একটাই দাবি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই! এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

খবরঃ বাংলামেইল২৪