রামেক হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

রাজশাহী

বর্ষা বিদায়ের পর রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে। তবে এখনো ডেঙ্গু রোগীমুক্ত হতে পারেনি উত্তরের জেলাটি।

শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দু’জন নতুন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। আর আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনজন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, গত এপ্রিল মাস থেকে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। এরপর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে এর তীব্রতা। হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মূলত অক্টোবর থেকেই কমতে থাকে। নভেম্বরের শেষে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা নেমে এসে দাঁড়ায় তিনজনে।

গত এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আর ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

পরে তারা চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যাও কম। এ পাঁচ মাসে কেবল তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা তিনজনই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে আক্রান্ত হয়ে শেষ মুহূর্তে এখানে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন।

এর মধ্যে গত ১২ আগস্ট আব্দুল মালেক নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর শাপলা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর রওশন আরা নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত বাকি রোগীরা সবাই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণত এডিস মশার কামড়ে এই ভাইরাস ছড়ায়। কাউকে এডিস মশা কামড়ালে সংক্রমিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। বর্ষাকালে ডেঙ্গু মশার বিস্তার ঘটে। বর্ষাকাল শেষ হওয়ায় এডিস মশার প্রকোপ কমেছে। তাই রামেক হাসপাতালসহ গোটা দেশেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বলে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক।

আর আজ নতুন রোগী ভর্তি হলেও ডেঙ্গু নিয়ে এখন আতঙ্ক নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, আজ দু’জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে পুরনো একজন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গত কয়েক মাসের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই নগণ্য। এরপরও তারা সতর্ক রয়েছেন। নতুন কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান হাসপাতালের উপ-পরিচালক।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজ