রায় পেলেও মন্ত্রণালয়ের ‍সায় মিলছে না বুলবুলের

রাজশাহী

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী মেয়র পদে ফিরতে তার আর বাধা নেই। কিন্তু রায়ের দেড় মাসেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি আসেনি নগর ভবনে। তাই রায় পেলেও মন্ত্রণালয়ের সম্মতি না মেলায় দায়িত্ব পাচ্ছেন না রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তাই এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র দিয়েই চলছে নগর ভবনের কার্যক্রম।

তবে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক দিন থেকে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে মেয়র বুলবুলের ক্ষমতায় ফেরার বিষয়টি। জোর গুঞ্জন উঠেছে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আবারও নগরপ্রধানের চেয়ারে আসীন হবেন মাত্র ১৪ মাস দায়িত্ব পালন করে বরখাস্ত হওয়া রাসিকের এই মেয়র।

এরই মধ্যে আপিল বিভাগের রায়ের কপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পৌঁছে গেছে। এখন কেবল বাকি রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠির। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী মেয়র বুলবুলকে দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করে ফেলেছে মন্ত্রণালয়। এখন বরখাস্তের আদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করলেই প্রক্রিয়াটি শেষ হবে।

এর পরই তাকে আবারও দায়িত্ব প্রদানের জন্য চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে রাজশাহী নগর ভবনে। তাই মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পৌঁছালে শিগগিরই স্বপদে ফিরতে পারবেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

মেয়র বুলবুলের আইনজীবী আমিনুল হক হেলাল জানান, সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ। গত ৫ মার্চ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সরকারের দাখিল করা এ সংক্রান্ত লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। চূড়ান্ত রায়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র বুলবুলকে বরখাস্ত করা ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযীমকে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বুলবুলের মেয়র পদে ফিরতে আর বাধা নেই।

জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের দফতরে কোনো চিঠি আসেনি। তবে রায়ের কপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে রাসিকের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগও করা হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান রাসিকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

যোগাযোগ করলে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মধ্যে দিয়ে নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি জানান, জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি পরিষদের মেয়াদ প্রায় শেষ। এরপরও দায়িত্ব পেলে যতটুকু সুযোগ পাবেন জনগণের জন্যই কাজ করবেন। সব ওয়াদা রাখতে না পারলেও অন্তত একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

২০১৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ সরকার হত্যাসহ সন্ত্রাসবিরোধী চার মামলায় বুলবুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় নগর বিএনপির সভাপতি বুলবুলকে ২০১৫ সালের ৭ মে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বুলবুল ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২১ জুলাই তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুন তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতাল চলকালে মোট ১৭টি মামলার আসামি হন বুলবুল। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এই ৪টি মামলার মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলাও রয়েছে। দীর্ঘ দিন কারাবন্দি থাকার পর সবগুলো মামলায় জামিন পান বুলবুল।

খবরঃ বাংলানিউজ

2 thoughts on “রায় পেলেও মন্ত্রণালয়ের ‍সায় মিলছে না বুলবুলের

Comments are closed.