রুয়েট ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, অটোরিকশাচালক গ্রেফতার

রাজশাহী

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক ছাত্রীকে চলন্ত অটোরিকশার মধ্যেই যৌন হয়রানি করে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া চালকের নাম শামসু ডলার সুমন। তিনি নগরীর ভেড়ীপাড়া এলাকার মৃত আমান উল্লাহ রেন্টুর ছেলে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রুয়েটের ছাত্রীর ঘটনাটি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। পরবর্তীতে তদন্ত করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অটোরিকশার পেছনে সাদা রঙ দিয়ে বড় করে ‘আল্লাহু আকবার, সাদিয়া, তাওসিক পরিবহণ, নামাজ কায়েম করুন’ লিখা ও লাইসেন্স নম্বর (রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাসিক- খ- ৮২৩, ২০১৮-২০১৯) দেখা যায়। যা থেকে চালককে শনাক্ত করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে ওইদিন ছাত্রী তার অটোরিকশায় ছিলেন। তবে সে দাবি করছে ঘটনার সময় তার অটোতে থাকা অন্য অভিযুক্ত যাত্রীদের কাউকেই সে চেনে না। মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে অপর অভিযুক্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করতে আদালতের মাধ্যমে সুমনকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় রাজশাহীর নগর ভবন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী রুয়েট’র ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর ওই ছাত্রী নিজেই তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তিনি লিখেন, ‘আমার বাসা উপরশহর। বাসা দূর বলে আমি সাধারণত রুয়েট থেকে রেইলগেট পর্যন্ত অটোতে করে আসি। আজকেও প্রতিদিনের মতো অটো নিলাম, সঙ্গে ছিল দুইজন অপরিচিত রুয়েটিয়ান ভাইয়া আর একজন ভদ্রলোক। রুয়েটিয়ান ভাই দুইজন চিশতিয়ার সামনে নেমে গেলেন। ভদ্রা পার হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ অটোওয়ালা অটো থামায় দিলো, সামনে থাকা ভদ্রলোক কে বললো, ‘‘আপনি নেমে যান, আমি নিজস্ব লোক তুলবো”! আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই ভদ্রলোককে জোরপূর্বক নামিয়ে চারজন গুন্ডা উঠে অটো চালানো শুরু হয়ে গেলো! ভদ্রা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত রাস্তা মোটামুটি নির্জন, ইচ্ছেমত সেই চারজন আমাকে স্পর্শ করা শুরু করলো। হাজারবার অটো থামানোর জন্য চিৎকার করার পরও অটোওয়ালা পশুর মত হাসতে থাকলো..

তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি লিখেন, নগর ভবনের সামনে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে তারা অটো থেকে ধাক্কা মেরে আমাকে ফেলে দিয়ে দ্রুত চলে গেলো!  যতক্ষণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি ততক্ষণে অটো বহুদূর…’

যৌন হয়রানির কোনো বিচার হবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, ‘কাহিনীটা শুধু শেয়ার করলাম। এইটা বাংলাদেশ, কোনো বিচারের আশা আমি করছিনা।’

তিনি আরও লিখেন, ‘অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে আমার পোশাক কি ছিলো? সাধারণ বাঙালি নারীর মতো সালোয়ার কামিজ।’

ওই ছাত্রী তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনার পরদিন ২০ আগস্ট তিনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

খবর কৃতজ্ঞতাঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর