“রেজাল্টকে আমি কখোনোই মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি মনে করিনা”

মন্তব্য

আমি কোনোদিনই এমন কোনো উদাহরণে আসতে চায় নি,যেখানে অন্য কেউ আঘাত পাবে। অথচ প্রত্যেকবারই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। নিয়মিত পড়াশোনার চেষ্টা করতাম, জানার চেষ্টা করতাম, ভাল রেজাল্ট সেটার আবশ্যিক পরিণতি। সবাই একরকম হয় না, সবার সাথে তাই সবার তুলনাও চলে না, রেজাল্টকে আমি কখোনোই মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি মনে করিনা। রেজাল্ট খারাপ হবার অসংখ্য কারণ আছে। এস.এস.সি. এবং এইচ.এস.সি দুটোতেই তথাকথিত গোল্ডেন পাবার পর একজন শিক্ষার্থী রোলমডেল বা আদর্শ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা,তাতে আবার বোর্ড স্কলারশিপ প্রাপ্তি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমাকে মডেল ধরে নিয়ে অপমান করা হয় (হয়েছে,হচ্ছে) খুব কাছের মানুষদের। ” ও পারলে,তুই ক্যান পারিস না”।

সর্বশেষ আজকে ছোট বোনকে কথার ঝড় সইতে হয়েছে আমার মত রেজাল্ট করতে না পারায়। আমি বাড়িতে থাকলে হয়ত এরকমটা হতে দিতাম না। যারা A+ পায়নি তাদের বাবা-মা হয়ত বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে না, কিন্তু সে ঠিকই জানে অসুস্থ্য প্রতিযোগিতার তুমুল ভিড়ে সে কতটুকু পিছিয়ে গেল!

আমি বলি ভিন্নকথা। তুই A+ পেলে কিংবা ফেইল করলে কিছুই আসে যায় না। তুই তো জানিস আসলে কি দরকার? তুই যে চমৎকার গাইতে পারিস, চমৎকার আঁকতে পারিস, অসাধারণ কিছু পারিস, সে খেয়াল কেউ রেখেছে? কিছু প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত লিখে নিয়ে আর যাই হোক, শিক্ষার্থীর নানান দিক কোনোভাবেই জানা সম্ভব হয় না।

ইংল্যান্ডের ব্যারোফোর্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁর চিঠিতে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন,

“…এই পরীক্ষাগুলো তোমাদের বিশেষত্ব বা এককত্বকে কখনো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারে না। এগুলো যারা তৈরি করেছে এবং মূল্যায়ন করে তোমাকে নম্বর দিয়েছে, তারা তোমাদের প্রত্যেককে চেনে না, যেমনটি তোমাদের শিক্ষকেরা চেনেন বা তোমাদের পরিবার জানে। তারা জানে না যে তোমাদের মধ্যে অনেকেই দুটো ভাষা জানো। তুমি যে একটা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারো, পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান গাও কিংবা চমৎকার ছবি আঁকতে পারো, তার খবর তারা রাখেই না। তারা তো জানে না, তোমার হাসি কেমন করে একটি দিনকে রাঙিয়ে তুলতে পারে, খেলার মাঠে তোমার বন্ধুরা তোমার জন্য কেন অপেক্ষার প্রহর গোনে? তোমার কবিতা, গান লেখার খবর যেমন তারা রাখে না, তেমনি স্কুল ছুটির পর তুমি যে তোমার ছোট ভাই বা বোনকে পরম মমতায় আগলে রাখো, সেটাও কিন্তু তারা জানে না। ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমার ভাবনা, পৃথিবীর সুন্দর সুন্দর দেশ ঘুরে বেড়ানোর তোমার অভিজ্ঞতা— এগুলোও কী তারা জানে? জানে না। তুমি যে চমৎকার গল্প করতে পারো, নিকটজনের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসো—এগুলোর
খবরও তারা পরোয়া করে না। কাজে তারা জানে না যে তুমি একজন বিশ্বস্ত, চিন্তাশীল এবং প্রতিদিনই তুমি ক্রমাগত ভালো করার চেষ্টা করছ। পরীক্ষার নম্বরগুলো তোমাকে কিছু বিষয় জানাবে বটে, তবে তা কখনো সবকিছু নয়। কাজেই তোমার পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গর্ব করো, সেটিকে উপভোগ করো। কিন্তু মনে রাখবে, জীবনে চৌকস হওয়ার অনেক উপায় আছে।”

অতএব,কোনোভাবেই মন খারাপ নয়।

ভাল ফলাফল যারা করেছে তারা তো অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছে,তাই তাদের নিয়ে বেশি কথা বললাম না, শুধু সেই জোয়ারে আমিও একটু অংশ নিলাম- “অভিনন্দন!!!” ধারাবাহিকতা বজায় রাখো,সবচাইতে বড় কথা মানুষ হও।

zubayer ibn kamal
লিখেছেনঃ জুবায়ের ইবনে কামাল,
কৃতি শিক্ষার্থী, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।