লক্ষ্য এবার ‘বাংলাওয়াশ’

খেলাধুলা

bwash

১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। সেবার ইমরান খানের দলের বিপক্ষে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দলের লক্ষ্য ছিল পজিটিভ ক্রিকেট খেলা। ঠিক তার ২৯ বছর পর সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে মাশরাফি বাহিনী। পরপর দুটি ম্যাচ জিতে ওয়ানডে সিরিজ আগেই জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাওয়াশের লক্ষ্যে নিয়েই মাঠে নামবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। পক্ষান্তরে পজিটিভ খেলার লক্ষ্যে মাঠে নামতে চায় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ। ২৯ বছরের ব্যবধানে কতই না পার্থক্য দুই দলে।

১৬ বছর ধরে যাদের বিপক্ষে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটি তারা ধরে রেখেছিল। সেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের শঙ্কায় পড়েছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে হেরে উল্টো চাপে থাকা অতিথি দলটি এখন স্বান্তনা খোঁজার চেষ্টা করছে শেষ ম্যাচকে ঘিরে। এমন সমীকরণ নিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও গাজী টিভি।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের সব ম্যাচে হারের শঙ্কায় পড়েছে পাকিস্তান। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে চাপে থাকা দলটি স্বান্তনা খুঁজছে নিউজিল্যান্ডের ‘বাংলাওয়াশ’ থেকে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে হেরেছিল কিউইরা। অন্য ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। মাশরাফি-সাকিবদের সামনে আবারো বাংলাওয়াশের হাতছানি। এমন উপলক্ষ্য নিশ্চয় হেলায় হারাতে চাইবে না স্বাগতিকরা।

কারণ পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়েও অনেকগুলো পয়েন্ট যোগ হবে মাশরাফি বাহিনীর অ্যাকাউন্টে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক দলের সহকারী ও স্পিন কোচ রুয়ান কালাপাগেরও এ বিষয়টি খুব ভালোভাবেই সাংবাদিকদেরকে মনে করিয়ে দিলেন। আগেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শেষ ম্যাচটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ। তবে সে পথে হাঁটবে না স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ দল শেষ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে কালপাগে বলেন , ‘আমাদের জন্য ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় নয়। প্রতিটি ম্যাচই জেতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা দারুণ সুযোগ।’

এক ম্যাচ হাতে রেখেই পাকিস্তানকে সিরিজ হারানোয় মিরপুরের আকাশে ভাসছে বাংলাওয়াশের রেণু। মঙ্গলবার বিকালে স্বাগতিক দলের অনুশীলনের আগে অনেকটাই নির্ভার মাশরাফি বাহিনী। যেখানে এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কঠোর অনুশীলন করেছে অতিথি দলের সদস্যরা। অনুশীলনে এতোটা সিরিয়াস ছিল তারা যে, স্থানীয় মিডিয়ার সঙ্গে কথাটুকু বলেনি আজহার-আজমলরা।

হঠাৎ করেই বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার গল্পটা শোনালেন কালাপাগে, ‘পাকিস্তানকে হারানোয় আমি মোটেও অবাক হইনি। খেলোয়াড়েরা যেভাবে উন্নতি করছে তাতে আমি খুশি। সবাই জানে তারা কতটা প্রতিভাবান খেলোয়াড়। আমরা খেলছি একটা দল হয়ে। গত চার মাসে আমরা সত্যি অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছি। তামিম পরপর দুটো সেঞ্চুরি করল। প্রত্যেকে দারুণ খেলছে এ মুহূর্তে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে ছেলেরা দারুণ খেলেছে। সবার দারুণ উন্নতি হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে এখন ছেলেরা খুব খুশি।’

নিউজিল্যান্ডকে পরপর দুবার হোয়াটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে মোট দশম ধবলধোলাইয়ের দুই অংকের ম্যাজিক ফিগারে। তবে শেষ ওয়ানডেতেও স্বাগতিকদের দৃষ্টি একটুও পরিবর্তন হয়নি। রুয়ান কালপাগে বলেন, ‘গত কয়েক ম্যাচ কেবল নয়, আমরা গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি। যদিও সবসময় প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়। তবে সবাই আত্মবিশ্বাসী। বোলিং-ফিল্ডিং-ব্যাটিং প্রতিটি বিভাগেই আমরা এ মুহূর্তে দারুণ করছি। তাই শেষ ম্যাচে এ ছন্দটা ধরে রাখা দরকার। কারণ র‌্যাঙ্কিংটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছু ঠিকঠাক হওয়ায় আমরা খুশি।’

বাংলাদেশের সামনে হোয়াটওয়াশের হাতছানি। ঠিক তার উল্টো চিত্রটা পাকিস্তানের। স্বাগতিকদের কাছে হেরে এবার লজ্জা থেকে মুখ লুকানোর শেষ সুযোগ। তবে এ অবস্থা থেকে তারা ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন পাকিস্তানের স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে এ অবস্থা থেকে উন্নতি সম্ভব। যদিও অনেক তরুণ তারকা সমৃদ্ধ আমাদের এ দলটা। কিন্তু তারপরও একবারেই আনকোরা। তবে একটা ভালো ইনিংস কিংবা একটি ভালো স্পেলই অবস্থার পরিবর্তন এনে দিতে পারে। আর সে জন্য আমাদের পরিশ্রমী এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে।’

নিজ দলের অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় থাকলেও প্রতিপক্ষ দলের সাফল্যকে মোটেও খাটো চোখে দেখছেন না পাকিস্তানের এ সাবেক তারকা ক্রিকেটার। পরপর দুটো ম্যাচে হারলেও পেছন ফিরে তাকাতে চান না তিনি। শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত স্বান্তনার জয় পেতে চায় সফরকারীরা।

তাই শেষ ম্যাচটিতে পাখির চোখ করা মুস্তাক আহমেদ বলেছেন , ‘আমরা একটা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অনেক অনেক নতুন তারকা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাদের সময় প্রয়োজন। বৃত্তের ভেতরের পাঁচ ফিল্ডার, ওভার প্রতি দুই বাউন্সার এবং নতুন দুই বল; এসব অনেক বিষয়ে তাদের ধারণা পেতে হবে। যার অনেক কিছু সম্পর্কেই এখনও তাদের ধারনা নেই, তবে এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে।’

শেষ পর্যন্ত কী হবে? বাংলাদেশ কি দেখা পাবে বাংলাওয়াশের, নাকি সান্তনার জয় পাবে পাকিস্তান।

সুত্রঃ অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published.