ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলা মাথায় রাখা উচিৎ

তথ্য প্রযুক্তি

আমাদের সবার কাছেই ল্যাপটপ একটি অতি প্রয়োজনীয় ডিভাইস। পোর্টাবল এই ডিভাইসটিকে আমরা ইচ্ছেমত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করতে পারি বলে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের কাজ সহজ করে দেয় চমৎকার এই ডিভাইসটি। অবশ্য অনেকেই বলে থাকেন সময়ের সাথে এই ডিভাইসটি একটি সময় হারিয়ে যাবে কেননা এর পরিবর্তে বড় আঁকারের স্মার্টফোন বা ট্যাব সেই জায়গাটি দখল করে নেবে। আমার এই প্রসঙ্গটি হাস্যকর মনে হয়। আর যদি এরকম হয়েও যায় কখনো তবে সে অবস্থার বেশ দেরি আছে, তাই এই হাস্যকর বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে আসলে কোন লাভ নেই। বরং আজকে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে কিছু ভিন্ন পয়েন্টে বর্তমানে ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে আমাদের যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিৎ সেই সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

নোট – একটি ল্যাপটপ কেনার আগে প্রাইমারী কম্পোনেন্টগুলো যেমন – প্রসেসর, র‍্যাম, জিপিইউ ইত্যাদি খেয়াল করে কেনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং এই বিষয়গুলো সবাই খেয়াল করেই কেনেন। তাই আমি কিছু ভিন্ন পয়েন্টের কথাই আলোচনা করছি আজ। 

এসএসডি আছে কি না 

আপনি খেয়াল করে দেখবেন মোটামুটির দামের ল্যাপটপগুলোতে স্পেসিফিকেশন কিছুটা কম হয়ে থাকে। এবং ল্যাপটপের ক্ষেত্রে পরবর্তিতে কম্পোনেন্ট কিছু ক্ষেত্রে যোগ করা সম্ভব হয় না এবং সম্ভব হলেও সেই কম্পোনেন্টগুলো হয় বেশ দামী। এক্ষেত্রে আপনি যদি কেনার সময় একটি এসএসডি সম্বলিত ল্যাপটপ কেনেন তবে আপনার ল্যাপটপটি কিছুটা হলেও ফাস্ট কাজ করবে। তুলনা করে বলতে গেলে, একই স্পেসিফিকেশনের একটি এইচডিডি সম্বলিত ল্যাপটপের চাইতে সেই স্পেসিফিকেশনের একটি এসএসডি সম্বলিত ল্যাপটপ দ্রুত কাজ করে থাকে। এছাড়াও এসএসডি ড্রাইভগুলো হার্ড ডিস্কের চাইতে কম তাপমাত্রা উৎপন্ন করে এবং কম শক্তিও খরচ করে যা আপনার এবং আপনার ল্যাপটপ উভয়ের জন্যেই ভালো।

হ্যাঁ, আপনি হয়তো এসএসডি সম্বলিত ল্যাপটপে স্টোরেজের পরিমাণ কিছুটা কম পাবেন তবে হার্ড ডিস্কের চাইতে ভালো সেবাও পাবেন ল্যাপটপটি থেকে। পাশাপাশি আপনি যদি একটি পোর্টাবল হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনার স্টোরেজের সমস্যাও দূর হয়ে যাবে।

ব্যাকলিট-কী আছে কি না 

ব্যাকলিট-কী’র প্রয়োজনীয়তা আমি সেদিন উপলব্ধি করেছি যখন আমি একটি ব্যাকলিট-কী ফিচার ছাড়া একটি ল্যাপটপ কিনেছিলাম! এর আগে আমি আমার বাবার ল্যাপটপ ব্যবহার করতাম যেখানে ব্যকলিট কি ফিচারটি ছিল। এরপর আমি একটি মাঝারি মূল্যের ল্যাপটপ ব্যবহার করতে শুরু করলে যখন সেখানে এই ফিচারটির অনুপস্থিতি টের পেয়েছিলাম সেদিন হালকা অন্ধকারে আমি ঠিকমত টাইপও করতে পারিনি। এমন না যে আমি আলোতে থাকার সময় কী-বোর্ডের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে টাইপ করি তবে অন্ধকারে যখন আমি কী-গুলো দেখতে পাইনা তখন কেন যেন লিখতে বেশ কষ্ট হয়!!

আপনি যদি ল্যাপটপ বেশি ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনার অবশ্যই একটি ব্যাকলিট-কী সম্বলিত একটি ল্যাপটপ কেনা উচিৎ যা আপনাকে মৃদু আলো বা অন্ধকারে ভালো সাপোর্ট দিবে।

কী-বোর্ড ও টাচপ্যাড ব্যবহার করে দেখুন

আমি হলফ করে বলতে পারি আমরা যারা ল্যাপটপ ব্যবহারকারী আছি তারা ল্যাপটপ কেনার সময় খুব কম মানুষই কী-বোর্ড এবং টাচপ্যাডটি ব্যবহার করে দেখে কিনেছিলেন! আমরা সবাই প্রসেসর থেকে শুরু করে র‍্যাম, স্টোরেজ, জিপিইউ সব কিছু লক্ষ্য করে থাকি, শুধু কী-বোর্ড আর টাচপ্যাডের মত ব্যাপারগুলোকে ঘাটিনা। মজার বিষয় হচ্ছে, পরবর্তিতে যদি আপনার কাছে ল্যাপটপের কী-বোর্ডটির কী-গুলো কিছুটা কঠিন মনে হয় তবে সমস্যার সম্মুখীন হবেন। এছাড়াও কিছু কিছু টাচপ্যাড আছে যা সহজ কথায় বলতে কিছুটা বেশিই স্মুথ যার ফলে হাত পিছলে যায়। আবার কিছু কিছু টাচপ্যাডের লেফট-রাইট বাটনগুলো টাচপ্যাডের মধ্যে ইনভিজ্যিবল থাকে ফলে এই টাচ প্যাডগুলোও হয়ে থাকে বিরক্তিকর। আর একটি ল্যাপটপ যখন কেনা হয় লং-টার্ম ব্যবহারের জন্য তাই ছোট খাটো এই বিষয়গুলোতেও গুরুত্ব দেয়া উচিৎ সমান ভাবেই।

শেষ কথা – ছোট খাটো এই বিষয়গুলোও যদি আপনি প্রসেসর-র‍্যাম-জিপিইউ এর মত সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দেখে একটি ল্যাপটপ কেনেন তবে আপনার ল্যাপটপটি থকে আপনি সহজেই এর সর্বোচ্চ ব্যবহারটুকু আপনি বের করে নিতে পারবেন, আর এই উদ্দেশ্যেই ছোট্ট ছোট্ট এই টপিকগুলো নিয়ে প্রিয় টেক আপনাদের সামনে হাজির হয় আপনাদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই। যাই হোক, যদিও এই বিষয়গুলো অনেক সহজ ভাবেই লিখেছি। তবুও যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তবে মন্তব্যের ঘরে আপনার প্রশ্নটি তুলে রাখতে পারেন, উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ।