শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর রাবি ছাত্রলীগ

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলন গত বছরের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। অনেক নাটকিয়তার পর ১১ ডিসেম্বর গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারণ সম্পাদক করে গুরত্বপূর্ণ পাঁচটি পদের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল একান্ত এক স্বাক্ষাতকারে দলের সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সিটবাণিজ্য ও ডাইনিং-ক্যান্টিনে বাকি খাওয়ার নজির রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, আমি এবং আমার সাধারণ সম্পাদক সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি হলে সিট বাণিজ্য করা যাবে না। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও যেন কোন ভোগান্তিতে না পড়ে সেদিকে আমাদের সতর্কদৃষ্টি রয়েছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংগঠন, তাই আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আর ডাইনিং-ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বাকি খাওয়া চলবে না। যদি কারোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তবে তার কঠোর ব্যবস্থাসহ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সঠিক কোনো সময় জানাতে পারেনি। তবে তিনি জানান, আগামী ২৪ জানুয়ারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পুর্নমিলনী ঢাকার সোহরাওর্য়াদী উদ্যানে হবে। সেজন্য এখন আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এরপরেই আমরা সিভি সংগ্রহ করা শুরু করবো। তারপর যাচাই বাছাই শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল নিষ্ক্রিয় আছে। তাই তাদের রাজনীতির সাথে যারা জড়িত তারা যেনো বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করে কোনো সুবিধা নিতে না পারে বা ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট না করতে পারে আমরা সেদিকে লক্ষ্য রাখছি। সেজন্য আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার লক্ষ্যে পদ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহ করবো। যারা পদপ্রত্যাশী তারা পারিবারিকভাবে কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে ব্যাপারে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা বা এলাকায় গিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হবে। আমরা চাইবো কোনভাবেই যেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা ছাত্রলীগে আসতে না পারে। রাবি ছাত্রলীগ ইউনিট নিয়ে কেউ যেন বির্তকের সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক অবস্থানে থাকবো।

এসময় তিনি রাকসু নিবার্চন নিয়েও কথা বলেন। গোলাম কিবরিয়া জানান, রাকসু নির্বাচন নিয়ে উপাচার্যের সাথে প্রথমিক আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের মেয়াদের মধ্যে রাকসু নির্বাচন করতে চাই। রাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা কাজ করছি এবং ভবিষতে করে যাবো।
ক্যাম্পাসে স্থানীয়দের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে করে কোনভাবেই যেন স্থানীয়রা ক্যাম্পাসে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে। কথা দিচ্ছি কখনোই ক্যাম্পাসে কখনোই আমরা কাউকে মাইনাস করে রাজনীতি করবো না। সকলকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে চাই। রাবি ছাত্রলীগকে মডেল ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবটুকু করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

এদিকে ছাত্রী হলগুলোতে র্দীঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় অনেক ছাত্রীকে ছাত্রলীগের পরিচয়ে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এছাড়া মেয়েদের হলগুলোতে শিবিরের ছাত্রী ইউনিট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এগুলো বন্ধে ছাত্রী হলগুলোতে কমিটি দেয়ার বিষয়ে কিবরিয়া বলেন, আসলে আমরা খুব অল্প সময় হলো দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা চেষ্টা করবো খুব দ্রুত সব হলগুলোতে কমিটি দেয়ার। যাতে করে হলগুলোতে ছাত্রলীগের পরিচয়ে কোন ঝামেলার সৃষ্টি না হয়।

খবরঃ দৈনিক সানশাইন