শিক্ষা স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো ক্ষুদে ‘রাজনীতিকদের’ ভোট

ক্যাম্পাসের খবর রাজশাহী

লিখেছেন তামান্না ইয়াসমিন ॥ শনিবার দুপুর ১২টা। সবার মধ্যে টানটান উত্তেজনা। মাইকে ঘোষণা আসছে, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অবশেষে আসলো ঘোষণা। বিজয়ীরা আনন্দে নাচানাচি করতে লাগলেন। এ চিত্রটি রাজশাহী শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের। শনিবার এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হলো স্টুডেন্ট কেবিনেট।

স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ভোট। স্কুলের সকল শিক্ষার্থী ছিলেন ভোটার। তাদের মধ্য থেকে সাত ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শিক্ষাথীদের মধ্য থেকেই পুলিং এজেন্ট, প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। তবে প্রথম বারের মতো নির্বাচন হওয়ায় রিটারনিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন দুই জন শিক্ষক। বৃহস্পতিবার টানা ভোটগ্রহণ চলে। শুক্রবার চলে তার গণনা। আর শনিবার ঘোষণা করা হয় ফলাফল।

স্টুডেন্ট কেবিনেটের নির্বাচিত সাত সদস্য হলেন- নিয়ামুল শেখ (নবম শ্রেণী), সাদিয়া ইসলাম (অষ্টম), সুফরিয়ার আহমেদ সেতু (সপ্তম), সাদিত আল আমিন (ষষ্ঠ-লাল), বায়েজিদ ইসলাম (ষষ্ঠ-সবুজ), ফাহিম আজমুল (অষ্টম) এবং মিনহাজ হাসনাইন (সপ্তম)।

ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক কাজী গিয়াস। এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর রাজশাহী জেলার নির্বাহী কমিটির সদস্য আতিক রহমান, নির্বাচন কমিশনার আফসানা কবির, রিটার্নিং অফিসার মাসুদ রানা এবং শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইবরাহীম হোসেন।

শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইবরাহীম হোসেন বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের ভালো পড়ালেখা করাতে চাই। ভালো ছাত্র তৈরি করতে চাই।একজন দায়িত্বশীল নাগরিক বানাতে চাই। একজন ভাল বৈজ্ঞানিক, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ, দেশ পরিচালনার যোগ্য লোক হিসেবে তৈরি করতে চাই। তাই তাদের মধ্যে ছাত্রজীবন থেকেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা দরকার।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রবীণ সাংবাদিক কাজী গিয়াস জানান, যদি প্রকৃত অর্থেই নতুন প্রজন্মকে আমরা সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্মাতা বানাতে চাই কিংবা তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তাহলে অবশ্যই এই প্র্যাকটিসটা তাদের সহায়তা করবে। একজন দায়িত্বশীল, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করবে। যা একটি সুন্দর ও শিক্ষিত জাতি গঠনের সহায়ক।