শিবগঞ্জে নারীদের ভিড় বেড়েছে দরজিবাড়িতে

বগুড়া রাজশাহী বিভাগ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের তরুণী মৌসুমী আকতার চান এবার ঈদে তাঁর পোশাকটি একটু ভিন্ন হোক। বিভিন্ন দোকান ঘুরে তিনি মনের মতো তৈরি পোশাকটি পাননি। কিছুটা পছন্দ হলেও দোকানি সে পোশাকের যে দাম হেঁকেছেন, তাতে কেনা হয়নি। তাই শনিবার বিকেলে তিনি যান স্থানীয় এক থানকাপড়ের দোকানে। সেখান থেকে কাপড় নিয়ে ছোটেন পছন্দের দরজিবাড়িতে। মৌসুমী বলেন, ‘পছন্দের রং, লেইস বসিয়ে একটি পোশাককে সহজেই ভিন্ন রূপ দেওয়া যায়। এতে দাম যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি স্বাতন্ত্র্য থাকে।’

ঈদের এই সময়টার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন উপজেলার কাপড় ব্যবসায়ী ও দরজিরা। উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শনিবার ঈদের বাজার ঘুরে দেখা গেল, অন্য সব দোকানের চেয়ে থানকাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। কীভাবে অন্যের চেয়ে নিজের জামাটা একটু আলাদা হবে, এ নিয়েই ব্যস্ত কিশোরী-তরুণীরা। আর চাহিদার কারণেই সুতি কাপড়ের বাহারি থ্রি-পিসের সম্ভারে দোকান সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া রয়েছে কাজ করা সুতির গজ কাপড়। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের এমব্রয়ডারি করা সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। জমকালো কাজ করা থ্রি-পিসের দাম শুরু ৪ হাজার টাকা থেকে। এ ছাড়া কাজ করা জর্জেট কাপড়ের থ্রি-পিসও বেশ বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম পড়ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। কাজ করা সুতি গজ কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

উপজেলা সদরের নিমতলা এলাকার আদিব বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মজনু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতি থ্রি-পিস, সুতি থানকাপড়, জর্জেট ও লিলেন কাপড়। এক রঙের তুলনায় ছাপা নকশার কাপড়ের ওপর এমব্রয়ডারির কাজ করা থ্রি-পিস বেশি বিক্রি হচ্ছে। ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে কাপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে।

এ সময় কথা হয় বানাইল মহল্লার তানজিলা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পছন্দের কাপড়গুলোর দাম একটু বেশি। এবার ঈদে বিভিন্ন ধরনের কাপড় বেরিয়েছে। তবে ঈদের জন্য একটু জমকালো কাপড়ের জামা বানাতে চাই। আর পছন্দের মাপের কাপড় পরার জন্যই রেডিমেড না কিনে সেলাই করতে দিই।’

 উপজেলা সদরের লেডিস ফ্যাশন টেইলারিং হাউসের স্বত্বাধিকারী ইউনুস আলী বলেন, পোশাকের ছাঁটে এবার খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। লম্বা ঝুলের কামিজ এবারও চলছে। এ ছাড়া বেশি ঘেরের আনারকলি ছাঁটও অনেকে বেছে নিচ্ছেন। সালোয়ারের ক্ষেত্রে পালাজ্জো, পার্টি সালোয়ারই বেশি চলছে। এ ছাড়া চুড়িদারের চল তো রয়েছেই।

হক টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঈদ হলেও গরমের দাপট কম নয়। সে কারণে সুতি কাপড়ের পোশাক তৈরির ফরমাশ বেশি আসছে বলে জানালেন তিনি। এমব্রয়ডারি, ইয়োক বসানো সুতি থ্রি-পিসের কদর বেশি এবারও। এর বাইরে কেউ কেউ জর্জেট, লিলেন, নেট, চিকেন ও সিল্কের কাপড়ও বেছে নিচ্ছেন।

তিথি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী উত্তম চক্রবর্তী বলেন, রোজার শুরু থেকেই কারিগরেরা রাত জেগে কাপড় সেলাই করছেন। এই ব্যস্ততা চলবে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত। খুব বেশি পরিচিত না হলে দরজিবাড়িতে এখন আর নতুন পোশাকের ফরমাশও নেওয়া হচ্ছে না। ঈদের বাকি আর দুই সপ্তাহেরও কম। তাই শেষবেলায় ভীষণ ব্যস্ততা চলছে দরজিবাড়িতে।

খবরঃ প্রথম-আলো