সরকারি বই নিতেও চাঁদা! তাই ক্ষোভ

বাঘা রাজশাহী

boi

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চণ্ডীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পেটানোর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সেই সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে রোববার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়। এ সময় বাঘা-পুঠিয়া ১নং আমলী আদালতে তার জামিনের আবেদন করা হয়।

পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান তার জামিন মঞ্জুর করেন। রাজশাহী জেলা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক বজলুর রশিদ সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান।

এর আগে তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শনিবার রাতেই ওই মামলাটি দায়ের করা হয়।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও অভিভাবকদের পাল্টা হামলায় প্রধান শিক্ষক আহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) তুহিনুর রহমান, বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বাদল চন্দ্র হালদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী আবদুল মোকিম ও বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান।

বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েই এডিসি শিক্ষা প্রথমেই সহকারী শিক্ষকদের অফিস কক্ষ পরিদর্শন করেন। ওই কক্ষ থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের পেটানোর কাজে ব্যবহৃত ১০টি বেত উদ্ধার করেন। এ সময় সহকারী প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে তদন্তের সময় শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেয়া শিক্ষকদের নানা অনিয়মের চিত্র প্রকাশ পায়। ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বর্তমানে যে পরিচালনা কমিটি রয়েছে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের নিজ হাতে গড়া। এ সুবাদে তিনি কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ আদায় করে থাকেন।

তদন্তে উঠে আসে, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট হতে পাঁচ টাকা করেও আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই না, জানুয়ারি মাসে বই দেয়ার সময় ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর নিকট হতে ১৫০ টাকা ও উপবৃত্তি দেয়ার সময় প্রত্যেকের নিকট হতে ১০০ টাকা করে অর্থ আদায় করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এছাড়াও প্রাইভেট না পড়ার কারণে ওই বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক জুয়েল ও মকবুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মারপিট করে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

টুলুয়ারা নামের এক অভিভাবক কান্না জড়িত কণ্ঠে এডিসিকে বলেন, শুনেছি সরকার ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে বই দেয়। অথচ আমার ছেলে সজল টাকা দিতে না পারায় তাকে বই দেয়া হয়নি। এ কষ্টে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানোর পর ছেলেকে একটি হোটেলে কাজে লাগিয়েছি।

এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে বই বিতারণের রেজিস্টার খাতা দেখতে চান এডিসি তুহিনুর আলম। কিন্তু তাৎক্ষনাৎ খাতা দেখাতে পারেননি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান। পরে আব্দুল কুদ্দুস নামের এক শিক্ষকের বাড়ি থেকে ওই খাতা এনে দেখা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডিসি শিক্ষা এসএম তুহিনুর আলম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে পৃথক-পৃথক ভাবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়গুলোর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে রাজশাহীর বাঘায় বনভোজনের চাঁদা না পেয়ে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে মারপিট করে আহত করেন চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলী। এ ঘটনার পর অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে ধাওয়া করলে তিনি অফিস কক্ষে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। পরে বিক্ষিপ্ত জনতা প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গণপিটুনি দেয়। এতে প্রধান শিক্ষকের দুইটি দাঁত ভাঙাসহ আহত হন। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ থানা পুলিশ গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সুত্রঃ বাংলামেইল২৪