সাকিবের ঢাকাকে হারিয়ে রাজশাহীর দ্বিতীয় জয়

খেলাধুলা রাজশাহী

চলমান বিপিএলের ২১তম ম্যাচে সহজ জয় তুলে নিতে গিয়েও শেষ ওভারে কঠিন জয় পেয়েছে রাজশাহী কিংস। সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে হারিয়েছে সাব্বির-স্যামি-মুমিনুলের রাজশাহী। জয় না পাওয়ায় রান রেটের হিসেবে খুলনা টাইটান্সকে হটিয়ে ঢাকার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করা হলো না।

৬ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে খুলনা। ৭ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ঢাকা। সমান পয়েন্ট নিয়ে ৫ ম্যাচ খেলা রংপুরের অবস্থান তিনে। ছয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল রাজশাহী।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিব আল হাসান। বিপিএলের এবারের আসরে দ্বিতীয়বার একে অপরের মুখোমুখি হয় দু’দল। গত ১১ নভেম্বরের ম্যাচটিতে ৬ উইকেটের জয় পায় রাজশাহী। ঢাকার দেয়া ১৩৯ রানের লক্ষ্যটা ১১ বল হাতে রেখেই টপকে যান স্যামি-সাব্বিররা।

কুমার সাঙ্গাকারার অর্ধশতকের সুবাদে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ঢাকা ডায়নামাইটস। নির্ধারিত ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৮২। জবাবে, ১৯.৫ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রাজশাহী।

ঢাকার ইনিংসের শেষদিকে সাকিব আল হাসান ১২ বলে ১৮ ও আগের ম্যাচেই ঝড়ো ইনিংস (২২ বলে ৫৩, খুলনার বিপক্ষে) উপহার দেওয়া সিকুজি প্রসন্ন ১৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। আবুল হাসানের করা ২০তম ওভারেই ২২ রান তোলেন সাকিব-প্রসন্ন। দু’জনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ৪৪ (২৩ বলে)।

ঢাকার ওপেনিং জুটিতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন মেহেদী মারুফ ও সাঙ্গাকারা। নবম ওভারের মাথায় দলীয় ৭১ রানে আউট হন মারুফ (২৫ বলে ৩৫)। আবুল হাসানের বলে সাব্বির রহমানের হাতে ধরা পড়েন। মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরো ৪৮ রান যোগ করেন সাঙ্গাকারা। ১৫তম ওভারে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে দু’জনকেই ফিরিয়ে রাজশাহীকে ব্রেকথ্রু এনে দেন ফরহাদ রেজা।

মোসাদ্দেক ১৩ ও ৬৬ রানের (৪৬ বল) ইনিংস খেলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং জিনিয়াস। আউট হওয়ার আগে ব্যক্তিগত ৩১ ও ৪৩ রানে দু’বার জীবন পান সাঙ্গাকারা। প্রথমে সামিত প্যাটেল ও পরে মুমিনুল হক সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন।

ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই ম্যাট কোলসকে (৮) ক্লিন বোল্ড করে ঢাকার চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটান পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি। জুটি গড়ে আর বিপর্যয়ের সুযোগ দেননি সাকিব ও প্রসন্ন। তাতেই স্কোরবোর্ডে ১৮২ রান তোলে ঢাকা।

১৮৩ রানের টার্গেটে রাজশাহীর হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন জুনায়েদ সিদ্দিক এবং মুমিনুল হক। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ক্যারিবীয়ান তারকা ডোয়াইন ব্রাভো ফিরিয়ে দেন জুনায়েদকে। উইকেটের পেছনে সাঙ্গাকারার গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে জুনায়েদের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান। দলীয় ১২ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় রাজশাহী। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে বিদায় নেন সাব্বির রহমান। মোহাম্মদ শহীদের বলে বাউন্ডারি সীমানায় নাসির হোসেনের তালুবন্দি হন তিনি। ৯ বলে ৭ রান করে নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন সাব্বির। দলীয় ৩১ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় রাজশাহী।

এরপর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জুটি গড়েন মুমিনুল হক আর সামিত প্যাটেল। এই জুটি থেকে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে আসে ৬৩ বলে ১০০ রান। ইনিংসের ১৫তম ওভারে মোহাম্মদ শহীদের দ্বিতীয় শিকারে ফেরেন মুমিনুল। নাসিরের তালুবন্দি হয়ে বিদায়ের আগে তিনি ৪২ বলে ৮টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৫৬ রান। পরের ওভারে বিদায় নেন সামিত প্যাটেল। সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন ৭৫ রান করা প্যাটেল। তার ৩৯ বলের ইনিংসে ৫টি চার আর ৬টি ছক্কার মার ছিল। দলীয় ১৫৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় রাজশাহী।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে উমর আকমলকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন ব্রাভো। আউট হওয়ার আগে আকমলের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। ১৯তম ওভারে ব্রাভো ফেরান রাজশাহীর দলপতি স্যামিকে। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৯ রান।

শেষ ওভারে রাজশাহীর দরকার হয় ৯ রান। উইকেটে ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ আর আবুল হাসান। ম্যাট কোলসের প্রথম বলেই ব্রাভোর তালুবন্দি হন আবুল হাসান (৫)। দ্বিতীয় বলে মিরাজ এক রান নিলে তৃতীয় বলে চার হাঁকান ফরহাদ রেজা। চতুর্থ বলে আবারো সিঙ্গেল রান আসে। পঞ্চম বলে চার হাঁকিয়ে দলকে জয় পাইয়ে দেন মিরাজ (৬)।

ঢাকা একাদশ: মেহেদী মারুফ, কুমার সাঙ্গাকারা (উইকেটরক্ষক), ম্যাট কোলস, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), ডোয়াইন ব্রাভো, সাঞ্জামুল ইসলাম, সিকুজি প্রসন্ন, সোহরাওয়ার্দী শুভ, মোহাম্মদ শহীদ।

রাজশাহী একাদশ: মুমিনুল হক, জুনায়েদ সিদ্দিক, সাব্বির রহমান, ওমর আকমল (উইকেটরক্ষক), রকিবুল হাসান, সামিত প্যাটেল, ড্যারেন স্যামি (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, ফরহাদ রেজা, আবুল হাসান, মোহাম্মদ সামি।

খবরঃ বাংলানিউজ